পরিবহন খাতে নৈরাজ্য অবসানের দাবি সুজনের

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ এবং পরিবহন খাতে সকল নৈরাজ্যের অবসান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু নিয়ে নৌ-মন্ত্রীর অসংবেদনশীল আচরণ ও দায়িত্বহীন মন্তব্য, এবং সড়ক নৈরাজ্য অবসানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয়ই দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিষ্ফোরণ ঘটেছে এ আন্দোলনর মাধ্যমে। এই আন্দোলনের পেছনে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থনকে সরকারের জন্যে একটি শক্তিশালী সতর্ক বার্তা বলে আমরা মনে করি।

ইদানিংকালের আন্দোলন ও জন বিক্ষোভসমূহের প্রবণতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, জনমনে একটি সাধারণ বিক্ষুব্ধতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে যা বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরিত হচ্ছে, এবং বিক্ষোভের রেশ প্রলম্বিত হচ্ছে। সরকারের ক্রমশঃ কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠা, বিরুদ্ধমত ও মুক্তচিন্তা দমন, গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা বিনষ্ট হওয়া সার্বিক অর্থে গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের অভাবই জনমনে আস্থার সংকট ঘণীভূত করেছে, যার বিস্ফোরণ ঘটছে নানাভাবে।

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তিসমূহের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পথে নেমে এসেছে এবং গত কয়েকদিনে তারা রাজপথের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে অভূতপূর্ব জন-শৃঙ্খলা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে সকল মহলেরই শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন এবং তাদের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রম আমাদের মধ্যে নতুন আশার সূচনা করেছে, এবং এরা যেন ব্যর্থ না হয় তা সরকারসহ সকল মহলকেই নিশ্চিত করতে হবে।

এই আন্দোলন মোকাবিলায় শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সরকারের প্রাজ্ঞতার পরিচায়ক। কিন্তু একই সাথে আমরা উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করেছি মিরপুর ও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের হামলা। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে সতর্ক করতে চাই যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা সরকারের জন্যে আত্মঘাতী হয়েই দেখা দেবে। আরও ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও আন্তরিকতা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এর অবসানের দাবি জানাই।