আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘চেকপোস্টে’ ক্রিকেটার শাহাদাতের গাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ায় পর থেকেই ৯ দফা দাবিতে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো রাস্তায় অবস্থান নেন তারা। এদিনও গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ির ফিটনেস।

নিশ্চিত করা হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট, প্রাইভেটকার চালকের সিটবেল্ট। বাদ যায়নি সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও মন্ত্রীদের গাড়ি। পঞ্চম দিন বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীদের ‘চেকপোস্টে’ আটকা পড়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের গাড়ি।

সে সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে না থাকায় অবশ্য খানিকটা বিপাকে পড়তে হয় ডানহাতি এই পেসারকে। অবশ্য আন্দোলনরত ছাত্রদের সৌহার্দপূর্ণ আচরণে ঝামেলা পোহাতে হয়নি তাকে।

২ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টারদিকে কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে এই ঘটনা ঘটে। শাহাদাত জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হতেই অন্যান্য গাড়ির মতো শাহাদাতের গাড়িও থামায় আন্দোলনরত ছাত্ররা। গাড়িটি থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চায় তারা।

শাহদাত জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ওই মুহূর্তে সেটি তার সঙ্গে ছিল না। পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলতেই ছাত্ররা তার গাড়িটি ছেড়ে দেয়। এমনকি পথে সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে তার সাথে তিন শিক্ষার্থীকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান। তারা শাহাদাতকে নিরাপদে মিরপুর স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেয়।

এ প্রসঙ্গে শাহাদাত বলেন, ‘ভাই, আমি ১২ বছর ধরে গাড়ি চালাই। আমার কেন ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকবে না? কিন্তু ওইসময় সেটি আমার সাথে ছিল না। কিন্তু ছাত্রদের বুঝিয়ে বলায় তারা বুঝতে পারে, আমার গাড়ি ছেড়ে দেয়। এ ছাড়াও তারা তিনজন ছাত্রকে আমার সাথে দিয়ে দেয়। ওরা আমাকে মিরপুর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। কোনো ভোগান্তি ও ঝামেলা হয়নি।’

ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় দলের এই পেসার বলেন, ‘তারা তো ভুল কিছু করছে না। অন্যায় কিছুও করছে না। তারা আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছে। যেটা পুলিশ পারেনি, সেটাই ছাত্ররা করে দেখিয়েছে। এরপর থেকে আমি সব সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স সাথে রাখব। অন্যদের বলব, নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর জন্য।’

২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান শহিদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম। আহত হন আরও ১২ জন। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল ‘রেডিসন ব্লু’র উল্টো দিকের সড়কে ঘটে এ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ছাত্রসমাজ। রাজপথে নেমেছে ৯ দফা দাবি নিয়ে। বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ ছাড়াও আন্দোলনে নেমে তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দেশবাসীকে। তাদের প্রচেষ্টায় ঢাকার অধিকাংশ সড়কে সারিবদ্ধভাবে চলছে যানবাহন।