সরকারি চালকদের গাড়ির কাগজপত্র-লাইসেন্স সঙ্গে রাখার নির্দেশ

সরকারি যানবাহন অধিদফতরের চালকদের গাড়ির মূল কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকা চালকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হওয়ার প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট)  বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা চালকদের গাড়ির মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। আরও ইন্সট্রাকশন দেয়া হয়েছে যে, ড্রাইভিং লাইসেন্সও আপডেট করে সঙ্গে রাখতে হবে। আমরা লিখিতভাবে তাদের বলেছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি মন্ত্রীদের চালকরা ধরা পড়ছেন। যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না তারা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, ‘আমাদের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট থাকার কথা। আর গাড়ির কাগজপত্র তো আমরা সরকারিভাবেই আপডেট করে দেই। তবে অনেক সময় বিআটিএতে একটু সময় লাগে। আমাদের চালকরা সবাই ভারি যানবাহন চালানোর লাইসেন্সধারী। সে ভাবেই আমরা রিক্রুট করি। মাঝে মাঝে চেকও করি, ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট কিনা। অনেক সময় তারা গাড়ির কাগজপত্র সঙ্গে রাখেন না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মন্ত্রীর একাধিক গাড়ি থাকে। আমরা তাদের একটি গাড়ি দিয়ে থাকি। ঘটনাগুলো যখন ঘটছে তখন তারা কোন গাড়িতে থাকেন সেটা দেখার বিষয়। আমরা বুঝতে পারছি না সমস্যা আমাদের চালকের কিনা। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’

‘তবে আমাদের ড্রাইভারদের কারও লাইসেন্স আপডেট না পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাইসেন্স আপডেট করে সব সময় সঙ্গে রাখা তার দায়িত্ব।’

ঢাকায় যানবাহন অধিদফতরের তিনশ’র মতো চালক রয়েছে। যারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ মন্ত্রীদের গাড়ি চালাচ্ছেন। জেলা উপজেলা পর্যায়ে চালকের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জাবালে নূর পরিবহনের বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হন। এর পরদিন থেকে বেপরোয়া বাস চালকের ফাঁসি, ফিটনেসবিহীন এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের গাড়ি ও চালকদের কাগজপত্র পরীক্ষা করছে। কাগজপত্র না থাকলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিচ্ছে। পুলিশকে মামলা দিতে বাধ্য করছে।