শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেকায়দায় সরকার, সুযোগ নিতে পারে তৃতীয় পক্ষ

গত রবিবার রাজধানীর খিলক্ষেতে বাস চাপায় ২ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় টানা ৫দিন ধরে উত্তাল রাজধানী ঢাকার সড়ক। গত ৫ দিনে ৩ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর চওড়া হাসি’র বিষয়টি দেশ-বিদেশে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে বিষয়টি সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকার বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেন এ বিষয়ে তৃতীয় পক্ষ কোন ধরনের সুযোগ নিতে না পারে।

আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিকে যৌক্তিক বলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণার পর সরকারের হাইকমান্ড আরও সতর্ক হয়েছেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে বড় কোন আন্দোলন জমাতে পারেনি কোন রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠন। সরকারের শেষ মুহূর্তে এসে কোন ধরনের ঝামেলায় জড়াতে চায় না ক্ষমতাসীনরা। তাই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভাবে দেখছে সরকারের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান দুর্ঘটনায় নিহত মীমের বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তার হাসির জন্য পরিবারে কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুর্ঘটনায় নিহত প্রতি পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কেউ যাতে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি রয়েছে। তেমন কিছুর চেষ্টা করা হলে সে বিষয়টি সরকার তখন কঠোর হস্তে দমন করবেন।

আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর করলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সড়কে দাঁড়িয়ে গাড়ির লাইসেন্স চেক করছেন। গাড়ির লাইসেন্স না পেলে সেই গাড়ি আটকে রাখছেন। পাশাপাশি গাড়ি চলাচলে বেশ কিছু দিক-নির্দশনা দিচ্ছেন ড্রাইভারদের। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এসব উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখছে সবাই। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাথে দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন।

এই আন্দোলনকে নিয়ে যাতে কোন রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠন কোন ধরনের ফায়দা লুটতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে সরকার। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোটা আন্দোলনের সময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মামুন আহমেদ’র ফোনে কথোপকথনের অডিও ফাঁস হওয়ার পর ওই আন্দোলন আর বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে দেয়নি সরকার। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চলতি আন্দোলনের বিষয়ে প্রশাসনও বেশ সতর্কের সাথে দেখছে বিষয়টি। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কোন ধরনের লাঠিচার্জে নিষেধ করেছেন।