আন্দোলনে রাস্তায় তারকারা, আটক হয়েছিলেন সালমান মুক্তাদির

পরিবহন ব্যবস্থার অনিয়ম ও যাত্রী হত্যার প্রতিবাদে চলমান ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন বিনোদন জগতের তারকা। মূলত গতকাল ৩১ জুলাই থেকেই রাস্তায় আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে যোগ দেওয়া শুরু করেন শিল্পীরা। এদিনই পুলিশ আটক করেন ইউটিউব সেলিব্রেটি ও অভিনেতা-নির্মাতা সালমান আল মুক্তাদিরকে। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও আজ এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন নির্মাতা এসএ হক অলীক, আব্দুল্লাহ রানা, অভিনয়শিল্পী মনিরা মিঠু, জ্যোতিকা জ্যোতি, রওনক হাসান, তৌসিফ মাহবুব, নওশাবা ও সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান।

এরমধ্যে এসএ হক অলীক, আব্দুল্লাহ রানা, রওনক হাসান, মনিরা মিঠু উত্তরায় আজ বেলা ১২টার দিকে অংশ নেন। তৌসিফ মাহবুব উত্তরা ও জ্যোতিকা জ্যোতি শাহবাগে অংশ নিতে রওনা হয়েছেন বলে জানান।
নওশাবা আন্দোলনকারীদের ব্যানার পোস্টার তৈরিতে সহযোগিতা করছেন।

সালমান আল মুক্তাদিরের আটক হওয়ার বিষয়ে জানা যায়, গতকাল বিকালে তিনি আবদুল্লাহপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। সেখানেই ফেসবুক লাইভ করে ছাত্রদের পক্ষে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
কিন্তু সালমানের উপস্থিতিতে উত্তেজনার ছড়াচ্ছে, এ অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আজও মিরপুরের ছাত্রদের সঙ্গে ছিলেন। গতকাল সালমানের আটক হওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন সালমানের সহকর্মী অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব।

এদিকে তৌসিফ আজ উত্তরায় ছাত্রদের সঙ্গে অংশ নেবেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি শুটিং ইউনিট থেকে ছুটি নিয়েছি, শুধু তাদের সংহতি জানাব বলে। এমন অবস্থায় আমি কাজ করতে পারছিলাম না। মাত্রই রওনা হলাম। এখন দেখি পরিস্থিতি কী’।
বেলা ১১টায় প্রীতম হাসান বাড্ডা এলাকায় ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ছাত্ররা সেখানে লাঠিচার্জের স্বীকার হয়েছেন বলে জানান তিনি। ‘সকালবেলা আমি সেখানে ছিল। পুলিশ খুব অ্যাগ্রেসিভ। সমানে লাঠিচার্জ করেছে। এরপর আমাদের সরিয়ে দেয় তারা।’ বললেন প্রীতম।

উল্লেখ্য, ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়।
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুও পরিবহন ব্যবস্থায় অনিয়ম নিয়ে এখন শহরজুড়ে চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। আজও প্রায় ঢাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করে রেখেছে ছাত্ররা।