‘হিন্দু বা মুসলমান নয়, বাঙালিরাই টার্গেট’

ফুলকি অনলাইন: ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকদের যে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ৪০ লাখের বেশি বাংলা ভাষাভাষীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে অবস্থানরত অনেকের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, হিন্দু কিংবা মুসলমান নয়; আসামে টার্গেট করা হচ্ছে বাঙালিদের।

আসামের একজন বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া মুসলমানরা নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আমাদের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে কিংবা বিতাড়িত করাও হতে পারে।

যদিও ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার বলছে, ওই তালিকাটি কাউকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। যারা তালিকার বাইরে রয়েছেন, তারা আবারো নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভারতের আদমশুমারি কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, খসড়াটির ওপর ভিত্তি করে কাউকে ডিটেনশন সেন্টার বা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বহু মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সে সময় থেকে তাদের অধিকাংশই আসাম রাজ্যে বসবাস শুরু করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির জন্য বিজেপি এই আদমশুমারির আয়োজন করেছে। প্রথমবারের মতো ভারতের কোনো রাজ্যে এভাবে আদমশুমারির ঘটনা ঘটল।