সরকার ও কমিশনকে বিতর্কিত করার নীলনকশা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি : সেতুমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার নীলনকশা বাস্তবায়নে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচন করতে আসেনি। এসেছিল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। এসেছিল সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার নীলনকশা বাস্তবায়নে। তবে তারা এতে ব্যর্থ হয়েছে।’

মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যে আন্দোলন বিক্ষোভ ডেকেছে তাতেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেরবার ক্ষমতায় থাকতে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিল। এবার আমরা চারটিতে জিতেছি, তারা জিতেছে একটিতে। তারা এবার ১/৫ অংশে জিতেছে। এর অর্থ সিটির পাঁচভাগের চারভাগ জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের রাজনীতি গ্রহণ করেছেন। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিকে তারা বর্জন করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘জনগণের ওপর বিএনপির কোনও আস্থা নেই। কাজেই তারা কী করে প্রত্যাশা করে জনগণ তাদের ভোট দেবে?’

সিলেটে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থী পাস করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। সেখানে আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই তাদের প্রার্থী জয়লাভ করেছে। আমরা জানতে চাই, বিএনপি প্রার্থী কি সেখানে পুনর্র্নিবাচন চান?’

নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময় যে সরকার থাকবে, তার ক্ষমতা বর্তমানের মতো হবে না। তাদের ক্ষমতা কমে যাবে, সংকুচিত হবে। সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তারপরও বিএনপি নির্বাচনে না এলে আমাদের কিছু করণীয় থাকবে না। তবে আমরা মনে করি বিএনপি না এলেও ওই নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল অংশ নেবে।’

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় রাজপথে আন্দোলন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। আমরা চুপ করে নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিচারের সম্মুখীন করা হবে। আমি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলবোÍক্লাসে ফিরে যাও, তোমরা শান্ত হও, পড়াশুনায় মনোযোগী হও।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।