রাজশাহীতে এগারো কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট

রাজশাহী সংবাদদাতা : রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩৮টি কেন্দ্রে এবার মেয়র পদে গড়ে ৭৮.৮৬ শতাংশ ভোট পড়েছে; ১১টি কেন্দ্রে পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট। এর মধ্যে নগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৭৬টি ভোটের মধ্যে ২৫০৪টিই বাক্সে পড়েছে। রাজশাহীতে এ কেন্দ্রেই ভোটের হার সবচেয়ে বেশি, ৯৭.২০ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুল কেন্দ্রে, সেখানেও ভোটের হার ৪২.৬৬ শতাংশ।
সোমবার বিক্ষিপ্ত অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৭০০ ভোট, যিনি ব্যাপক অনিয়ম আর জাল ভোটের অভিযোগ তুলে নিজের ভোটটিও দেননি। ভোট চলার মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে মেয়র পদে ‘ভোটারের তুলনায় বেশি ভোট’ পড়েছে অভিযোগ শুনে দুপুরে ওই কেন্দ্রে ছুটে যান ধানের শীষের প্রার্থী বুলবুল। কেন্দ্রের ভেতর ঘুরে এসে প্রতিবাদ জানাতে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত কলেজের মাঠে বসে থাকেন রাজশাহীর বিদায়ী মেয়র। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে গণতন্ত্র বিপন্ন’, এ কারণে তার এই প্রতিবাদ।নির্বাচন কমিশন বলছে, ‘ভোটারের তুলনায় বেশি ভোট’ নয়, ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮৫.৪২ শতাংশ।
দশ বছর আগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর ২০০৮ সালের ৪ অগাস্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশনের যে নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে মেয়র পদে ভোটের হার ছিল ৮১.৬১ শতাংশ। নব্বই শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল আটটি কেন্দ্রে। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে রাজশাহীতে ভোট পড়ে ৭৬.০৯ শতাংশ। সেই বিচারে এবারের ৭৮.৮৬ শতাংশ ভোটের হার বা ১১টি কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না রাজশাহীর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান।
তিনি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এসব কেন্দ্রে প্রতিদ্বদ্বিতাপূর্ণ ভোট হওয়ায় প্রার্থীদের কারণে উপস্থিতিও ছিল বেশি। সিটি ভোটে মেয়রের পাশাপাশি সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের কারণেও ভোটের হার বাড়ে।” এই তিন সিটির ভোটের আগে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কারণ খুঁজতে নেমেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আর খুলনায় একটি কেন্দ্রে ৯৯ শতাংশ ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, ওই কেন্দ্রে কেবল একটি ভোট বাক্সে পড়া বাকি ছিল।
সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচনগুলো নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সোমবার বলেছেন, তিনি ‘সন্তুষ্ট’। আবার রাজশাহীতে সোমবার ভোট দিতে না পেরে সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। ৯০ শতাংশের বেশি ভোট: ১ নম্বর কেন্দ্র কাশিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯১.৬৯); ৩ নম্বর কেন্দ্র গোলজারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯০.৪৬); ৪ নম্বর কেন্দ্র গোলজারবাগ উচ্চ বিদ্যালয় (৯৬.৭৭); ৭ নম্বর কেন্দ্র ঠাকুরমারা কলোনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯১.১৭); ১১ নম্বর কেন্দ্র নগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯৭.২০); ৬৮ নম্বর কেন্দ্র রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (৯১.৩১); ৮৬ নম্বর কেন্দ্র আলী নেওয়াজের অটো গ্যারেজ মাঠ (৯১.১৯); ৯০ নম্বর কেন্দ্র ছোট বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (দক্ষিণ: ৯০.৭০); ১০৬ নম্বর কেন্দ্র শাহ মখদুম ডিগ্রি কলেজ (৯১.১১); ১১৫ নম্বর কেন্দ্র ভদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯২.৭১) এবং ১২৯ নম্বর কেন্দ্র সায়েরা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিকমবিদ্যালয় (৯১.৫৮)।
৮০ শতাংশের ওপরে ভোট: রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৪.৬), মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৫.২৭), রাজশাহী কোর্ট কলেজ (৮১.৪৪), ডিবি আনোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮২.১৮), মীর আইয়ুব আলী বিদ্যানিকেতন (৮৯.৫৬), রাজশাহী কোর্ট একাডেমি (৮১.৩৬), রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৮১.৪৮), উদয়ন ডেন্টাল কলেজ (৮১.৩০), বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ (৮৩.৩৮), সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (৮৩.০৪), হোসেনিগঞ্জ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৭.৫০), দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৯.১৭), পাঠানপাড়া কামারুজ্জামান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৫.৭৯), রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় (পুরুষ: ৮৬.১৫, মহিলা: ৮৫.৮৭)।
রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ (৮৯.৩৮), রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৮৭.৪৫), কাদিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮০.৭৫), মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৫.০৪), শহীদ নাজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৮২.৫৭), তার যোগাযোগ প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮০.২১), আটকোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৫.১৮), রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় (৮০.৪৬), শাহ মাখদুম হাই স্কুল (পাকা ভবন: ৮০.১৩, টিনশেড: ৮২.৩৪), নওদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পূর্ব ভবন: ৮৫.৯২, উত্তর ভবন: ৮৪.৯২), হামিদপুর নওদাপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (৮৪.৪৫), ইউসেপ ছোট বনগ্রাম সিটি করপোরেশন স্কুল (৮০.৯১), গোল্ডেন টাচ প্রি ক্যাডেট স্কুল (৮৮.০১)।
শিরইল কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ: ৮৭.৬১, মহিলা: ৮৬.৯৬), ছোট বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পশ্চিম: ৮৭.৩০, উত্তর: ৮৩.৪৩), শিরইল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় (পশ্চিম: ৮৭.৩৫), কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮০.৪৭), রানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৮০.১৬), সাবিত্রি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (মহিলা: ৮৬.২৫, পুরুষ: ৮২.৯২), সইজুদ্দিন জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৮.১২), অনন্যা শিশু শিক্ষালয় (৮৮.৮৬), খাদেমুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ: ৮৫.১৭, কলেজ ৮৪.৪২, মহিলা: ৮১.৫৭), তালাইমারী সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয় (৮২.৮৬)।
মেহেরচ-ী উচ্চ বিদ্যালয় (৮৮.৭৯), মাদারবকস গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (৮১.৯১), বালিয়াপুকুর বিদ্যানিকেতন (পুরুষ: ৮০৬৭), কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ: ৮১.৪১, মহিলা: ৮০.৩৫), তালাইমারী দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা (পুরুষ: ৮৯.৭৫, মহিলা: ৮০.৩৯), ধরমপুর শমসের আলী মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৯.৯৯), ডাঁশমারী উচ্চ বিদ্যালয় (৮২.৭১), রাজশাহী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা (৮৯.১৮), বিসিএসআইআর ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয় (৮৬.৮৬), ইসলামিয়া কলেজ (৮৫.৪২) ও মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৫.৯৪)।
৫০ শতাংশের কম ভোট: হাউজিং এস্টেট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (৪৭.৭৩) এবং রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুল (৪২.৬৬)। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বরিশাল ও সিলেটের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনও প্রস্তুত করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।