জেনে নিন, কি ঘটেছিল মালয়েশীয়ার হারিয়ে যাওয়া সেই বিমানে? উন্মোচিত হলো আসল রহস্য

ফুলকি অনলাইন: ২৩৯ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ হওয়ার আগে আকাশে বেশ কিছু সময় ধরে চক্কর দিয়েছিল। এছাড়া বিমানটি ছিনতাই হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। দীর্ঘ চার বছরের তদন্ত শেষে সোমবার প্রকাশিত মালয়েশীয় সরকারের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ৮ মার্চ দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হয় বিমানটি। তখন থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিমানটির নিখোঁজের কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি তদন্তকারীরা।

দীর্ঘদিনের তদন্ত শেষে মালয়েশিয়া সরকার ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সোমবার একটি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ৪৫০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের পর কিছু জায়গায় বারবার ঘুরপাক করেছে এবং তদন্তকারীরা বিমানটি ছিনতাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিতে পারেন না।

মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নিখোঁজ বিমানের তদন্তের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ উঠলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মর্মান্তিক এ ঘটনার উপসংহারে পৌঁছানো যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা কক সু চন বলেছেন, বিমানটিতে তৃতীয় পক্ষের অবৈধ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আমরা বাতিল করে দিতে পারি না।

এমন এক সময় মালয়েশিয়া সরকার চূড়ান্ত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করলো যার দুই মাস আগে বেসরকারি উদ্যোগে গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ বিমানটির খোঁজে চালানো অভিযান স্থগিত করা হয়।

গত বছর অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং মালয়েশিয়া প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সমুদ্রের ১ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালায়। এসময় ভারত মহাসাগরীয় উপকূলে বোয়িং৭৭৭ এর পাখার তিনটি খণ্ডিত অংম পায়া যায়।

এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, নতুন কোনো ক্লু পাওয়া গেলে তিনি আবারও অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০১৪ সালের ৮ মার্চ স্থানীয় সময় ১২টা ৪১ মিনিটে কুয়ালালামপুর থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি।