আশুলিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কুপিয়ে জখম

আশুলিয়া ব্যুরো: আশুলিয়ায় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রেমে ও কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভাড়াটে কক্ষে প্রবেশ করে বটি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পাশর্^বর্তী বখাটে রাজ্জাক (২০)কে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ২টারদিকে আশুলিয়ার পূর্বভাদাইল এলাকার সোলায়মান মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়ার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে।

বখাটে রাজ্জাক গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণ সাহাবাজ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে আশুলিয়ার ডিইপিজেড হাসেম প্লাজায় দিনমজুর হিসেবে লোড-আনলোডের কাজ করে। ভাদাইল পূর্বপাড়া বেপজা কেয়ার্টারের বিপরীতে সামাদ মিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে তার বাবা-মা ভাড়া থাকে। রাজ্জাক মাসখানেক পূর্বে মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ড অবস্থায় আটক হয়ে জয়দেবপুর থানাধীন চক্রবর্তী পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। পুলিশ রাজ্জাককে গাজীপুর আদালতে পাঠালে জেলহাজতে পাঠান বিজ্ঞ আদালত। পরে সে ১০দিন আগে জামিনে বের হয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

রক্তাক্ত ওই আহত ছাত্রী লাবনী আক্তার (১২) ও তার বাবা আলম এবং মা দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। বাবা লেবার কাজ করেন। মা পোশাক শ্রমিক। তাদের একমাত্র মেয়ে লাবনী। সে বাসার পাশর্^বর্তী পবনারটেক পিয়ার আলী স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

ঘটনার মূহুর্তে লাবনীর বাবা ও মা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ছিলেন। দুপুরে খাবার খেতে বাসায় আসলে পাশর্^বর্তী সামাদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলামের ছেলে রাজ্জাক পিছনে পিছনে গিয়ে লাবনীর কক্ষে প্রবেশ করে দরজা আটকিয়ে দেয়। একপর্যায়ে বখাটে রাজ্জাক ঝাপটিয়ে ধরার চেষ্টা করলে লাবনী ডাকচিৎকার করে। এসময় ওই কক্ষের মধ্যে থাকা ঘরের কাজে ব্যবহৃত বটি দিয়ে লাবনীকে এলোপাথারি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

জখমে লাবনীর মাথা, মুখমন্ডল, জিহ্বা, গলা ও কাঁধে গুরুতর জখম হয়। তার ডাকচিৎকারের শব্দ শুনে ওই কলোনীর পাশর্^বর্তী কক্ষে থাকা লাবনীর মামা দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় একপর্যায়ে বাহিরের একটি জানালা খুলে রাজ্জাক লাবনীকে কোপাতে দেখেন।

সে এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানালে মূহুর্তের মধ্যে শত শত জনতা উপস্থিত হয়ে বখাটে রাজ্জাককে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং আহত লাবনীকে উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করেন। পওে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  প্রেরণ করা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ক্ষুব্দ জনতার হাত থেকে বখাটে রাজ্জাক কে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হাজতে আটক রাখা হয়। ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানান।