বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে রবিবার (২৯ জুলাই) বাসচাপায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আজ সোমবার (৩০ জুলাই) দোষীদের বিচারের দাবিতে, শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়ক অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। এরপর শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আজ সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন স্কুলকলেজের শত শত শিক্ষার্থী।

এসময় তারা সড়ক হত্যায় জড়িত পরিবহনের মালিক, শ্রমিকদের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে হাসতে হাসতে প্রতিক্রিয়া জানানোয় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় বিমানবন্দর সড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা কলেজ ছাত্রদের গায়ে বাস তুলে দেন এক চালক। এ ঘটনায় এক ছাত্রী আর নিহত দুই জন এবং আহত অন্তত ১০ জন। তারা রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র। তাদের মধ্যে ছয় জন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি।

একই দিন সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন নৌমন্ত্রী। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বলে।

মন্ত্রী শুরুতে বলবেন না বলেও পরে শুরু করেন কথা। এ সময় তিনি পুরোটা সময় হাসতে থাকেন। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, এ প্রোগ্রামের সঙ্গে কি এটা রিলেটেড? তবে আমি শুধু বলবো, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা দোষী প্রমাণিত হলে তাদের শাস্তি দেয়া হবে।

সাম্প্রতিক একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ও তাতে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা আরও প্রশ্ন করলে মন্ত্রী সেগুলো এড়িয়ে দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

তার আগে শাজাহান খান বলেন, ‘নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগ উঠা হানিফ পরিবহণের শ্রমিকদের বিরুদ্ধেও প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গতকাল মৃত্যুর খবরে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের চওড়া হাসির জবাবে আজ প্রথমে মানববন্ধনে নামে শীক্ষার্থীরা। তবে পুলিশ মানববন্ধনে বাধা দিলে তারা এয়ারপোর্ট রোড বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এই বিক্ষোভ থেকে শীক্ষার্থীরা অবিলম্বে ঘাতক বাস চালককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানায়। একইসঙ্গে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগও দাবি করেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এয়ারপোর্ট রোড বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। যার ফলে ওই এলাকায় সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।