জেনে নিন, মাইগ্রেন ব্যাথার কারন ও এর থেকে মুক্তির উপায়

ফুলকি ডেস্ক: মাইগ্রেন অতি পরিচিত একটি রোগ৷ মাথা-ব্যথা বললে সবার আগে মাইগ্রেন ও সাইনোসাইটিসের নাম মনে পড়ে সবার৷ বয়ঃসন্ধির পর থেকে মাঝবয়স পর্যন্ত যে কেউ মাইগ্রেনে আক্রান্ত হতে পারেন৷ পুরুষ-স্ত্রীতে কোনও ভেদাভেদ নেই, তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের প্রকোপ তুলনামূলক।

মাইগ্রেন হওয়ার কারণ

মাথার এক পাশে প্রচন্ড ব্যাথা,চোখে ঝাপসা দেখা ও বমি বমি ভাব মাইগ্রেন ব্যাথার প্রধান লক্ষন। এই ব্যাথা যেকোন সুস্থ সবল মানুষকে কাবু করতে যথেষ্ট। মাইগ্রেন ব্যাথা সাধরনত হঠাৎ করে আক্রমন করে এর অবশ্য কিছু কারন আছে। খাবার-দাবারে অনিয়ম মাথা ব্যাথা বড়িয়ে দেয়। অনেকক্ষন পানি পান না করা বা অপর্যাপ্ত পানি পানের কারনে শরীরে সৃষ্ট পানি শূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, ঠিক মতো না ঘুমানো, ক্লান্তি মাইগ্রেন ব্যাথার প্রধান কারন। এছাড়া রক্ত সল্পতাও এই ব্যাথার একটি বিশেষ কারন।

করনীয়

  • যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুর, ডিম, সিম, দই, দুধ, কিশমিশ, কলা এবং সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙ্গের ফল ও সবজী নিয়মিত খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। মিষ্টি কুমরার বিচিতে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় নিয়মিত মিষ্টি কুমরার বিচি খেলে মাথা ব্যাথা তুলনামূলক কম হয়।
  • কোন ব্যাপারে উত্তেজিত হওয়া যাবে না । কারন কোন মানুষ উত্তেজিত হলে তার শরীরের রক্ত চাপ বেড়ে যায়। যার কারনে ব্রেনে চাপ পড়ে এবং মাথা ব্যাথা আরো বেড়ে যায়।
  • ব্যাথার সময় লাল চা, পুদিনা চা এবং আদা চা খেলে বিশেষ আরাম পাওয়া যায়।
    মাথা ব্যাথার সময় দুই থেকে তিনটি পান পাতা মিহি করে পিশে মাথর দুই পাশ সহ কপালে ভালো ভাবে লাগালে এবং একটি অপেল টুকরো করে লবন দিয়ে মেখে চিবলে ব্যাথা দ্রুত সেরে যায়।
  • মাথা ব্যাথার সময় কপাল সহ মাথার দুই পাস হালকা করে টিপে দিলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। লেবুতে ভিটামিন ’সি’ থাকার কারনে লেবুর রস অথবা লেবুর সরবত খেলে ব্যাথা দ্রুত সেরে যায়।
  • লবঙ্গ একটি রান্নার সাধারন মসলা হলেও মাথা ব্যাথা কমাতে এটি অনেক সাহায্য করে। দশ থেকে বারটি লবঙ্গ নিয়ে একটু গরম করে তার পর ঐ গরম করা লবঙ্গে ঘ্রান নিলে মাথা ব্যাথা আর থাকে না।
  • এমন কিছু খাবার আছে যা মাইগ্রেন রুগীদের না খাওয়াই উত্তম যেমন:- কেক, যেকোন রং দেওয়া খাবার, আচার, তৈলাক্ত খাবার, সস, ময়দা ও চিনির খাবার, টেষ্টিংসল্ট ইত্যাদি।
  • দীর্ঘ দিনের সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই উত্তম।