হজের প্রতিদান বেশুমার

ভরা মজলিস। চারদিক লোকারণ্য। হুজুর (সা.) সহাবাদের লক্ষ্য করে হজের দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। আচানক দুজন সাহাবি এসে প্রিয়নবী (সা.)-কাছে আবেদন করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কিছু প্রশ্ন করতে চাই’। হুজুর (সা.) বললেন, ‘তোমাদের আনিত প্রশ্নগুলো উত্তর দিবো নাকি তোমরা একে একে প্রশ্ন করবে আর আমি চুপ থাকবো?’ তারা উভয়ে বললেন, ‘হুজুর আপনি বলে দিন।’ প্রিয় নবীজি বলতে শুরু করলেন, ‘তোমাদের আনিত প্রশ্নগুলি হলো: ১. নিজ গৃহ থেকে বাইতুল্লাহ শরীফে গমন করার সওয়াব কি? ২. তাওয়াফের পর দুরাকাত নামাজের প্রতিদান কি? ৩. সফা মারওয়ায় সায়ী করার বদলা কি? ৪. আরাফার ময়দানে অবস্থান করার জাযা কি? ৫. পাথর নিক্ষেপ করার প্রতিদান কি? ৬. এবং কোরবানি করার মাধ্যমে একজন মুসলমান কি পরিমাণ পুণ্যের অধিকারী হয়?’

এ প্রশ্নগুলি শুনে উভয় সাহাবি বিস্ময় নিয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য নবীরূপে প্রেরণ করেছেন, আমরা এ প্রশ্নগুলো নিয়েই আপনার কাছে এসেছি। এরপর হুজুর (সা.) প্রতিটি প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে লাগলেন, ১. যখন তোমরা স্বীয় ঘর থেকে বাইতুল্লাহ-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দাও, তখন থেকে তোমাদের বাহনের প্রতি কদমে একটি করে সওয়াব লিপিবদ্ধ হয় এবং তোমাদের একটি করে গুনাহও মার্জনা হতে থাকে। ২. তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়ার প্রতিদান ইসমাইল গোত্রের একজন গোলাম আজাদ করার সমতুল্য। ৩. সফা মারওয়ায় সায়ী করার সওয়াব সত্তর গোলাম আজাদ করার সমপরিমাণ। ৪. আরাফার ময়দানে যখন তোমরা হাজির হও, তখন মহান রাব্বুল আলামিন খুশি হয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে বলতে থাকেন, ‘দেখো! আমার প্রিয় বান্দারা জান্নাতের আশা নিয়ে, আমাকে সন্তুষ্টি করার নিমিত্তে, নিজেদের গুনাহ মাফ করাবার জন্য আরাফার ময়দানে হাজির হয়েছে। সুতরাং কারো যদি সমুদ্রজল সমপরিমাণ গুনাহ থাকে, আমি তা ক্ষমা করে দিবো। কারো গুনাহ বৃষ্টিজলের ফোটা পরিমাণ হয়, তাও আমি মাফ করে দিবো। হে আমার বান্দা! যাও, তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমরা যাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাদেরও ক্ষমা করে দিলাম।’ ৫. শয়তানকে প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের বিনিময়ে তোমরা ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করো।

৬. কোরবানির প্রতিদান আখেরাতে তোমাদের জন্য জমা করা হবে। যার পরিমাণ অকল্পনীয়। যখন তোমরা ইহরাম খোলার সময় মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলো, তখন প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি করে পুণ্য লেখা হয় এবং একটি করে খারাবি মিটিয়ে দেয়া হয়। তওয়াফে জিয়ারত করার সময় তোমরা পুরোপুরি গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যাও আর তখন একজন ফেরেশতারা তওয়াফকারীদের কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘এখন আগত দিনগুলির জন্য খুব আল্লাহর আরাধনা করো। তোমাদের পূর্বেকার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ: ৩/৩২৪), আততারগিব ওয়াত-তারহিব: ২৬২) হজ ইসলামের বড় এক স্তম্ব। যার প্রতিটি পরতে পরতে পুণ্যের সমাহার। আশা স্বরূপ বাণী রয়েছে সবক্ষেত্রে। জীবনের লক্ষ্য বুঝে আসে হাজিদের মিলনে। বেশুমার প্রতিদান কুড়িয়ে নেয়ার বড় মাধ্যম। মনকামনা পূর্ণ করার মোক্ষম সময়। নিজ গুনাহ মার্জনা সঙ্গে সঙ্গে অন্যের জন্য মাকবুল সুপারিশের সৃজন। তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হজের শুরু এবং শেষ যেনো কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে হয়। লৌকিকতা ছাপ বিন্দুমাত্রও বাকি না থাকে। তাহলেই আমাদের হজে মাবরুর নসীব হবে। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন!