রাজনৈতিক সংকটে আওয়ামীলীগ!

বিশেষ প্রতিবেদন: বিপদ বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

২৯ জুলাই, র‌বিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল আয়োজিত প্রতিবাদী নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোশাররফ এ মন্তব্য করেন।

বিএন‌পির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা সব ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদী নাগরিক সভাটির আয়োজন করা হয়।

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘টেলিফোন করেন। আমাদের মহাসচিব (মির্জা ফখরুল) বল‌বেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সামরিক বাহিনীকে নির্বাচনের সময় আনতে হবে। এটা তিনি টেলিফোনেও বলবেন, আবার যদি মহাসচিবের সাথে দেখা করেন, সেখানেও তিনি একই কথা বলবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুঝতে পেরেছেন, বিপদে আছেন তারা। কীভাবে দৌড়াদৌড়ি করতাছেন, অনেকের বাড়ি পর্যন্ত যাচ্ছেন। বাড়িতেও যদি আসেন, আমাদের মহাসচিবের এর বাহিরে বলার কিছু নেই।’

আগামী নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে, তারপরও জামিন দেওয়া হচ্ছে না। উদ্দেশ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাকে (খালেদা) ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগন মেনে নিবে না।’

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বলেন, ‘এই অবৈধ সরকার আন্তজাতিকভাবে স্বৈরাচারের স্বীকৃতি পেয়েছে। রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তা‌দের কোনো ধরনের জবাবদিহিতা নেই। প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। এক লক্ষ ৪৪ হাজার টন কয়লা চুরি হয়ে গেছে।

কেন হচ্ছে? যেহেতু স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। জনগণও বিশ্বাস করে না এদেরকে। এ দেশের সকল মানুষ অংশগ্রহণমূলক ভোট চায়। ৫ জানুয়ারিসহ এই সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। জনগনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সুষ্ঠ নির্বাচনকে সরকার ভয় পায় বলেই বন্দী বেগম জিয়া এখনো বন্দী।’

তিন সিটি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনার মতো তিন সিটিতে একই মডেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে এমনভাবে গ্রেফতার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, সাধারণ ভোটাররা পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ সেখানে ভোট দিতে হবে না। তথাকোথিত শেখ হাসিনা মডেলের নির্বাচন করতে চায় ক্ষমতাসীনরা।’