মাহমুদুর রহমানের আগাম জামিন

 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা মানহানির মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার (বন্ধ) ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ এ জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক কিরণ। পুলিশ অভিযোগ তদন্ত শেষে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করে। পরে আদালত দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০১ ধারার অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার মামলার ধার্য তারিখ ছিল; কিন্তু মাহমুদুর রহমান হাজির হননি

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করে মানহানিকর বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে মিথ্যাচার, কটূক্তি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে এই দেশকে ভারতের কলোনী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়, যা রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের সামিল। পাশাপাশি তার ওই বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর মানহানি হয়েছে।’

পুলিশ অভিযোগ তদন্ত শেষে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করে। পরে আদালত দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০১ ধারার অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। গত ২৬ জুলাই ধার্য তারিখে হাজির না হওয়ায় সুনামগঞ্জের একটি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় আজ হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান।

এর আগে গত ২২ জুলাই মাহমুদুর রহমান আরেকটি মামলায় কুষ্টিয়ার আদালতে হাজিরা দিতে গেলে সেখানে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন। ওই দিন অবশ্য সেই মামলায় জামিন পান তিনি।