মঙ্গলে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ জলরাশির সন্ধান!

প্রথমবারের মতো মঙ্গল গ্রহে বিশাল জলরাশির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। রোবটের মাধ্যমে মঙ্গলের মাটি খুঁড়ে রাডারের পরীক্ষায় প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইতালিয়ান একদল বিজ্ঞানী এই হ্রদের সন্ধান পেয়েছেন। তারা ২০১২ থেকে ২০১৫ সালে মার্স এক্সপ্রেস নভোযানের পাঠানো রাডার গবেষণার রিপোর্ট দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, লবণের কারণে পানি জমাট বেঁধে আছে সেখানে। আর ওই জলরাশির তাপমাত্রা মাইনাস ৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক যুগ ধরেই মঙ্গলে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি সেখানে পানির অস্তিত্ব থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে মঙ্গলে এতো বিশাল এলাকা জুড়ে পানির অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এবারই প্রথম। মঙ্গলে জীবন আছে কি না বা ক্ষুদ্র প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে জোরালো গবেষণা চলছে। জীবন থাকার জন্য পানি থাকা যেহেতু প্রধান এক শর্ত, তাই মঙ্গলে জীবন আছে, সে সত্যটি প্রমাণে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা বলতে হয়।

মঙ্গল গ্রহের মটির নিচে যে হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে, তাতে মাছ বা একটু বড় প্রাণী থাকার সম্ভাবনা কম হলেও মাইক্রোবস বা অণুজীব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিজ্ঞানীরা এই হ্রদকে ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলের পৃষ্ঠে কোথাও না কোথাও কম লবণাক্ত ও উষ্ণ পানির জলরাশি পাওয়া যেতে পারে আশা করছেন তারা।

যে লবণাক্ত হ্রদের খোঁজ পাওয়া গেছে, তা খুব একটা গভীর নয় বলেই ধারণা বিজ্ঞানীদের। মঙ্গল গ্রহের ভূপৃষ্ঠ এখন শুকনো ও শীতল। তবে মঙ্গলের উপরিভাগে শুকিয়ে যাওয়া হ্রদ ও নদীর গতিপথ দেখে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে গ্রহটিতে পানি ছিল প্রচুর।

মার্স অ্যাডভান্সড রাডার ফর সাবসারফেস অ্যান্ড আয়োনোস্ফিয়ার সাউন্ডিং নামের একটি মেশিনের মাধ্যমে এই গবেষণা চালিয়ে মঙ্গলে বিশাল এই হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। ইউনিভার্সিটি অব বোলোগনার প্রফেসর রবার্তো ওরোসেই এই হ্রদ আবিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে মঙ্গলের প্রথম এলাকা হিসেবে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার আশা প্রকাশ করেছেন। তবে সেখানে আদৌ প্রাণী আছে কি না, তা জানতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে, তেমনটা বলছেন বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলে বিশাল এই জলরাশি আবিষ্কারের বিষয়টিকে অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক অ্যালান ডাফি ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর স্কট হাবার্ডের মতো অনেক গবেষকই খুব চাঞ্চল্যকর বলে স্বীকার করছেন। এর আগে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র নভোযান ইনসাইট মার্স ল্যান্ডার গত মে মাসে মঙ্গলের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছায়। নভেম্বরে মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠে নেমে রোবটের মাধ্যমে খনন করে গবেষণা চালাবে নভোযানটি।