তিন নেতার সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের

‘কাদের সিদ্দিকীর সাথে আলোচনার বিষয়টি একেবারেই রাজনৈতিক নয়। আমাদের একটা সম্পর্ক আছে। তিনি বাংলাদেশের একজন বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা। তাছাড়া তিনি একসময় আমাদের মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। কনস্ট্রাকশনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। এখানে ওনার কিছু পাওনা আছে। সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বলেছি আপনার যেটা পাওনা আছে সেই বিষয়ে যে কাগজপত্র আছে তা আমার পিএস এর কাছে দিতে। যেটা পাওনা আছে সেটাতো দিতে হবে।’

রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ফাঁকে ফাঁকে তো রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছেই। রাজনৈতিক বিষয়ে, জোট বিষয়ে ইত্যাদি কথাবার্তাতো হয়েছে। তবে আমরা কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি।’

তিনি আরও বলেন, একইভাবে অনেকদিন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাহেবের সাথেও কথা হয়েছে। আমরা একসময় একসাথে ছাত্রলীগ করেছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমে যখন আন্দোলন করছি। মিছিল নিয়ে তখন কলাবাগান পার হচ্ছি। দিনটি ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন আমরা একসাথে ছাত্রলীগে ছিলাম। কলাবাগান পর্যন্ত যেতেই আমরা খবর পেলাম জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। তাদের লাশ আত্মীয়স্বজনের কাছে দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বেশকিছুদিন ধরে ভাবছি তার অফিসে যাব চা খেতে। সেদিন সেলিম সাহেব বিকেলে যেতে বলেছেন। তাই গেলাম। দেখা হয়েছে। কথাবার্তা হয়েছে। সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। হাইড অ্যান্ড সিক্রেটের বিষয় নয়। তারা তাদের জোট যে প্রগতিশীল বাম জোট আছে তারা তাদের মতো করেই তাদের অ্যালাইন্সে থাকবেন। তারা সেভাইে নির্বাচনে যাবেন। আর সে নির্বাচনে যাবেন তারা তাদের জোটগতভাবে। তবে তিনি বলেছেন আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। আমাদের স্পিরিটটা একই। একাত্তরের চেতনাটা আমাদের আছে থাকবে। কাদের সিদ্দিকির মেজাজও একরকই। আমাদের স্পিরিটিটা একই। আমি বলেছি অ্যালাইন্স করেন আর যাই করেন এ স্পিরিটট ধারণ করেই সব সিদ্ধান্ত নেন’, বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অলি আহমদ সাহেবের সঙ্গে স্পেইস এর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কুমিল্লায় একটা মিটিংএ গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেই ইস্যুতে আমি তার সাথে আলোচনা করেছি। আপনি নেক্সটে কোন মিটিং হলে আমাকে জানাবেন। আমি আলাপ করে নিব সংশ্লিষ্টদের সাথে। তাছাড়া এখন স্পেস দেওয়ার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজির সাথে কথা বলেছি। আমি অলি আহমদ সাহেবকে বলেছি। আমরা রাজনীতি করি আমাকে জানাবেন যে কোন জায়গায় মিটিং করতে চাইলে। আমি বিষয়টা নিয়ে কথা বলবো।

জোট সম্প্রসারণের কোন সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, কেউ যদি আসতে চায় তাহলে আমরা আমাদের পরিসরে আলোচনা করবো। আমাদের জোটের শরিকদের সাথে কথা বলে সেটা আমরা বিবেচনা করবো।

জাতীয় পার্টি মহাজোটে নেই এমন দাবি তাদের পক্ষ থেকে করা হয় সে বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, তারা মহাজোটে আছে এবং মহাজোটেই থাকবে।

কাল তিন সিটিতে নির্বাচন উপলক্ষ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আশা করি বিএনপি মাঠে থাকবে। মাঠে না থাকার কোন কারণ নেই। তারা বলেছেন তারা মাঠে থাকবেন। আমি এ স্পিরিটকে ওয়েলকাম করছি।