আসছে ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’

সমাজকল্যাণে অবদানের জন্য পদক দেবে সরকার। আসছে ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক।’

জাতীয় এ পদক দিতে খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আগামী বছর থেকে পদক দিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

খসড়া ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক নীতিমালা’ অনুযায়ী, পদকের সংখ্যা হবে প্রতি বছর ব্যক্তি পর্যায়ে তিনটি এবং সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটিসহ মোট পাঁচটি। তবে সরকার প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনো বছর উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান না পেলে পদক সংখ্যা কমাতে পারবে।

শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সংস্থাকে ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণের একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননা সনদ দেয়া হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমান  বলেন, ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক দিতে একটি নীতিমালা প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা প্রভৃতি বিষয়ে পদকের ব্যবস্থা থাকলেও সমাজকল্যাণে অবদানের কোনো পদক নেই। তাই সমাজকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য পদক চালু হলে বিশ্বে দেশের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। মানবতার উন্নয়নে সামাজসেবা, সমাজকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’ অন্যতম সর্বোচ্চ জাতীয় পদক হিসেবে গণ্য হবে।

পদকের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যয়েরও একটি প্রাক্কলন করা হয়েছে। পদক প্রদানে ব্যয় হবে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। পদকের মনোনয়নের জন্য নীতিমালার সঙ্গে একটি ছকও তৈরি করা হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে দেয়া হবে পদক

যেসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’ দেয়া হবে সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

সুবিধা বঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা প্রদান- বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে অবদান। প্রান্তিক, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, আত্মনির্ভরশীলকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমন্বিত ও সম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ- প্রতিবন্ধী ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ, জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ইনক্লুসিভ শিক্ষা বাস্তবায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হবে।

সামাজিক ন্যায়বিচার ও পুনঃএকত্রীকরণ নিশ্চিতকরণ- সুবিধাবঞ্চিত, আইনের সংস্পর্শে আসা, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু, কারামুক্ত কয়েদি, ভবঘুরে, নিরাশ্রয় ব্যক্তিদের কল্যাণ, উন্নয়ন ও পুনঃএকত্রীকরণ। দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ও মানসিক রোগী বা মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, চিকিৎসা সহায়তা, তাদের কল্যাণ, উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি।

মানবকল্যাণ ও মানবতাবোধে সমাজ বা রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এমন কর্মকাণ্ড- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এমন কোনো কর্ম যা সমাজের মানুষের মেধা ও মননের বিকাশ, জীবনমান ও পরিবেশের উন্নয়ন, সমাজবদ্ধ মানুষের মানসিক ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সর্বোপরি মানবকল্যাণ ও মানবতাবোধ সমাজ বা রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

পদক দেয়ার প্রক্রিয়া

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর ২ জানুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় সমাজসেবা দিবস অনুষ্ঠানে এ পদক দেয়া হবে।

প্রাথমিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে হবে জাতীয় কমিটি।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৫ জুলাই মনোনয়ন আহ্বান, জেলা পর্যায়ের কমিটিতে আবেদন গ্রহণ ৩১ জুলাই, জেলা কমিটিতে মনোনয়ন চূড়ান্ত ১৭ আগস্ট, জেলা কমিটির মন্ত্রণালয়ে মনোনয়ন সুপারিশ পাঠানো ৩১ আগস্ট, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন চূড়ান্তকরণ ২০ আগস্ট, জাতীয় কমিটির মনোনয়ন চূড়ান্তকরণ করা হবে ১৫ অক্টোবর।

জাতীয় পুরস্কার-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য মনোনয়ন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে ৩১ অক্টোবর। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর পুরস্কার চূড়ান্ত হবে।