নেইমারের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণ

ব্রাজিনিয়ান ফরোয়ার্ড তারকা ফুটবলার নেইমার রাশিয়ার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে ডি-বক্সের মধ্যে পড়েন যান। পেনাল্টির জন্য জোরালো আবেদন করে ব্রাজিল।

কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্টান্টের মাধ্যমে রেফারি দেখতে পান সেটি ছিল নেইমারের অভিনয়। ফলে হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাকে। প্রায় একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন এবারের ফুটবল আসরের একাধিক ম্যাচে।

ফাউল আদায় করতে নেইমারের অতি অল্পতেই পড়ে যাওয়া ও আহত হওয়ার ভান করা পারফর্মের চেয়ে অভিনয়ই নজর কাড়ে ফুটবলপ্রেমীদের। ফাউলের শিকার হলে মাটিতে পড়ে তার গড়াগড়িটা কেউই ভালো চোখে দেখেননি। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রাজিল তারকা নেইমার। আর তারই জের ধরে বিশ্বকাপের পর ফুটবলার নেইমারের ইমেজ ভয়ানক ধাক্কা খেয়েছে।

তার এই অভিনয় নেয়া বিশ্বতারকারা ও মিডিয়াও সমালোচনা করতে থামেননি। আর সেটাই তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া মৌসুমের অর্ধেক সময় চোটের কারণে খেলতে পারেননি তিনি। তাই ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের তালিকা থেকেও তাকে বাদ পড়তে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে নেইমারকে নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে ইংল্যান্ডের এক সংস্থা ক্যান্টর স্পোর্টস। তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বিশ্বকাপ শুরুর দুই সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ১ জুন থেকে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন দিন পর অর্থাৎ ১৮ জুলাই পর্যন্ত সময়টাকে গবেষণার জন্য বেছে নিয়েছিল ক্যান্টর স্পোর্টস। এই সময় তারা নেইমারকে নিয়ে সব ধরনের পোস্ট পর্যালোচনা করেছে। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। এই ম্যাচের আগে নেইমারকে নিয়ে মাত্র ২৮ শতাংশ নেতিবাচক পোস্ট ছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচের পরই সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ শতাংশে। শেষ আটে ব্রাজিল ছিটকে গেলে নেইমারকে নিয়ে নেতিবাচক পোস্টের হার ছিল সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ।

সূত্র: ক্যান্টর স্পোর্টস
বিশ্বকাপে নেইমার মাঠে নামার আগে তাকে নিয়ে ৫১ শতাংশ পোস্ট ছিল নিরপেক্ষ। প্রশংসা করে ২১ শতাংশ পোস্ট হয়েছে। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যাওয়ার পর নেইমারের প্রশংসাসূচক পোস্ট নেমে এসেছে তলানিতে মাত্র ১ শতাংশে। আশ্চর্যের ব্যাপার, সোশ্যাল মিডিয়াতে নেইমারকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে তার মাতৃভূমি ব্রাজিলেই!