নদী ও নারী আজ বিপন্ন

সিংগাইরে নদী রক্ষায় প্রতিবাদ সভায় বক্তারা—

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্থানীয় জনগণ আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেছেন, এ দেশে আজ নদী ও নারী বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যার যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবেই তাদের মতো করে ব্যবহার করছে। আর এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর বিপর্যয় নেমে আসবে।

যার ফল ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ সড়কের ধলেশ্বরী নদীর ওপর ভাষা শহীদ রফিক সেতুতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নদীটির উত্তর পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন লিঃ। পাশাপাশি ধলেশ্বরীর উভয় পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবী জানিয়ে বক্তরা বলেন, নদী ধ্বংস করে কোন উন্নয়ন কাজ নয়। বিদ্যুৎ ছাড়া মানুষ বাঁচে, কিন্তু নদী বা পরিবেশ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না।

নদী রক্ষায় সরকারসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। ভূমি খেকোরা ধলেশ্বরীসহ রাজধানীর আশপাশের নদী গুলো দখল করায় হুঁমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। বক্তারা, দ্রুত পাওয়ার প্যান্টের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ধলেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানান। এতেও কাজ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।

বাপা’র সহ-সভাপতি কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিলের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সদস্য শারমিন মুর্শিদ, ধলেশ্বরী নদী বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক আজাহারুল ইসলাম আরজু, সদস্য সচিব আব্দুল হামিদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বাপা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইতি রানী সাহা, সিংগাইর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জগদীশ চন্দ্র মালো, বেসরকারি সংস্থা বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় ও প্রোগ্রাম অফিসার শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপজেলা কৃষি উন্নয়ন কমিটিসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ৪ শতাধিক লোক অংশ নেন।

এদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় ওই স্থানে লোকজন জড়ো হতে থাকলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয় বলে অভিযোগ করেন বাপা’র কর্মকর্তারা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো নজরুল ইসলাম বলেন, মানববন্ধনে বাঁধা দেয়া হয়নি। সড়কটিতে যাতে যান চলাচলে বিঘœ না ঘটে আমারা সে চেষ্টা করেছি।

প্রসঙ্গত, ধলেশ্বরী নদীর ফোরশোর ভুক্ত জমি দখল করে ডরিন পাওয়ার “মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন লিঃ নামে ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মান করছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে গত ২৬ জুন জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। সেই সাথে উচ্ছেদ কার্যক্রম তদারকির জন্য কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মোঃ আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেন।

অপরদিকে দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভূমি অফিস মামলা করলেও আসামীদের গ্রেফতার কিংবা নদীটি দখলমুক্ত না করায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন। অবৈধ দখলদারদের নির্মান কাজ চলমান থাকায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এলাকাবাসির সমন্বয়ে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন।