খেপলেন সাকিব, বললেন ‘অধিনায়কত্ব আমি চেয়ে নেইনি, বোর্ড চাইলে অন্যকে দিয়ে দেবে’

ফুলকি ডেস্ক: অধিনায়ক হিসেবে সাদা পোশাকে সাকিব আল হাসান কতটা কার্যকরী? এই প্রশ্নের উত্তরে হয়তো অনেকেই সাফ জানিয়ে দিবেন সাকিবের অধিনায়কত্ব মোটেই দলকে প্রভাবিত করার মতো নয়। এমনকি দলের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাকিবের পারদর্শীতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করবেন অনেকে।

তবে ব্যক্তি সাকিব আদতে এই বিষয়টি নিয়ে যে খুব একটা ভাবেন না এবং ভাবতেও চান না সেটি তাঁর বক্তব্যেই পরিষ্কার হওয়া গিয়েছে। দেশের একটি অনলাইন পোর্টালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজেই জানিয়েছেন এসব সমালোচনা খুব একটা গায়ে মাখেন না তিনি।

এর পেছনে কারণ হিসেবে সাকিব তাঁর প্রতি বোর্ডের আস্থা রাখার কথাই তুলে ধরেছেন। টাইগারদের টেস্ট অধিনায়কের মতে যেহেতু ক্রিকেট বোর্ড তাঁর ওপর দায়িত্ব দিয়েছে সেটি তিনি যথাযথভাবেই পালন করার চেষ্টা করছেন। খেলোয়াড় হিসেবে দলের জন্য অবদান রাখারও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সাকিব বলেন,

‘আমাকে এই দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে, আমি কি চেয়ে নিয়েছি? যখন বোর্ড মনে করবে আরেকজন আমার চেয়ে ভালো, তাকে দিয়ে দেবে। এটা আমার কোনো ব্যাপার নয়। বোর্ড আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেটা ঠিকঠাক করার চেষ্টা করছি। আমার কাজ হচ্ছে খেলোয়াড় হিসেবে ভালো খেলা, দলের জয়ে অবদান রাখা।’

দেশের বাইরে ভালো করার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তাঁর মতে উপমহাদেশের বাইরে টেস্টে উন্নতি করতে হলে পেস, স্পিন সবদিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর এই বিষয়টি আরও ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন তিনি। সাকিবের ভাষ্যমতে,

‘দেশের মাঠে একটা উপায় তো আছেই। যেখানে আমরা বেশির ভাগই সফল। উপমহাদেশের বাইরে যদি টেস্টে উন্নতি করতে হয়, আমাদের সব দিকেই উন্নতি করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলি, ওয়েস্ট ইন্ডিজে দলে যারা গায়ানা থেকে আসে, তারা স্পিন একটু ভালো খেলে। যারা বারবাডোজ বা জ্যামাইকার, তারা ফাস্ট বোলিং ভালো খেলে। স্পিনে তারা দুর্বল। এই শক্তি বা দুর্বলতা হচ্ছে জন্মগত। চাইলে হঠাৎ কিছুতে শক্তিশালী বা দুর্বল হওয়া সম্ভব নয়।’

বিদেশে কঠিন কন্ডিশনে খেলার আগে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে হবে বলেও অভিমত সাকিবের। এমনকি সবাইকে নিজেদের দায়িত্বটি বুঝে খেলার প্রতিও মনোযোগী হতে হবে উল্লেখ করে টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক বলেন,

‘একেবারে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। চেষ্টা তো করতেই হবে। আমি যেটা বললাম, বিদেশে কঠিন কন্ডিশনে খেলার আগে প্রস্তুতিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আলাদাভাবে কোন খেলোয়াড়কে কী করতে হবে, সেটা ভালোভাবে বুঝতে হবে। তাদের নিজেদের ওপর দায়িত্বটা অনেক বেশি। এখানে সবারই দায়িত্ব আছে। খেলোয়াড়-বোর্ড সবার। যার যার জায়গা থেকে কাজগুলো ঠিকঠাক করলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।’