ওজিলের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থতা স্বীকার করলেন জার্মান ফুটবলের প্রধান

 তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে জার্মান ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল যে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছিল, তা মোকাবেলায় নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন জার্মান ফুটবল এসোসিয়েশনের প্রধান।

তুর্কি বংশোদ্ভূত মেসুত ওজিল জার্মানির শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত বর্ণবাদের অভিযোগ এনে গত রবিবার ওজিল জার্মান ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণার পর থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

গত মে মাসে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে ছবি তোলার পর থেকে উগ্র জার্মানিদের তীব্র সমালোচনার মুখে ছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।

পদত্যাগের ঘোষণায় ওজিল জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) প্রধান রেইনহার্ড গ্রিন্ডেলকে ইঙ্গিত করে বলেন, গত মে মাসে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে একটি ফটোশুটের পর থেকে তিনি ক্রমাগত বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। এই বর্ণবাদী আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষায় তার পাশে দাঁড়াতে ফুটবল কর্মকর্তার ব্যর্থ হন।

ওজিল বলেছেন, ‘গ্রিন্ডেল এবং তার সমর্থকদের চোখে- আমরা যখন জিতে যাই তখন আমি জার্মান, কিন্তু যখন আমারা হারি তখন আমি একজন অভিবাসী।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘জার্মানিতে ট্যাক্স পরিশোধ করা, জার্মান স্কুলগুলোতে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং ২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পরও আমি এখনো জার্মান সমাজে স্বীকৃত নই। আমার সঙ্গে বহিরাগত’র মতো আচরণ করা হয়।’

বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে গ্রিন্ডেল বলেন, ব্যক্তিগত সমালোচনা তাকে ‘প্রভাবিত’ করেছে। তবে, ওজিলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মূল্যবোধ হচ্ছে-‘বৈচিত্র্য, সংহতি, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং একীকরণ।’

ওজিলের ওপর বর্ণবাদী আক্রমণের জন্য অনুশোচনা ও নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের জাতিগত শত্রুতা কোনো অবস্থাতেই গৃহীত বা সহ্য করা হবে না।’

ওজিলের পদত্যাগের ঘোষণায় দেশটির রাজনীতিবিদদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উগ্র-ডানপন্থি দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’র অভিযোগ জার্মানির প্রতি ওজিলের কোনো ‘শ্রদ্ধাবোধ’ নেই। অন্যদিকে, ওজিলের পদত্যাগকে সোশ্যাল ডেমোক্রেটসরা ‘সতর্ক বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সূত্র: পলিটিকো