রেল গাড়িটা-*—মানসুর মুজাম্মিল

রেল গাড়িটা
চলে গেলো
কী যে কথা বলে গেলো।
কোন সুদূরে
হারিয়ে যাবে?
তার ভেতরে কাকে নেবে
করবে কাকে সাথী।
রেল গাড়িটা চলছে শুধু
সকাল থেকে রাতই।
রেল গাড়িটার
বুকে শুধু
ছুটে চলার ভাষা
টগবগানো রক্ত ছেড়ে
খিলখিলিয়ে হাসা।
রেল গাড়িটা চলতে জানে
ক্লান্তিহীন
রেল গাড়িটা ছুটছে।

বৃষ্টি বন্দনা
আতিফ আবু বকর

মেঘের দেশে এলেম শেষে
মাখতে কোমল বৃষ্টি,
জমা বরফ শীতল হরফ
অপরূপা সৃষ্টি।
অঝোর ধারা নজর কাড়া
লাজ রঙা রঙ অঙ্গে,
টাপুর টুপুর রাত্র দুপুর
ঝরছে নানান ঢঙ্গে।
আকাশ বুকে উড়ছে সুখে
অথৈ ঢেউয়ের পালকি,
দিচ্ছে বলে আসুন চলে
আজ অথবা কাল কি।
ভেজার গীতে অংশ নিতে
ভুলছি শরম লজ্জা,
মুক্তোদানা হিমের কণা
অপূর্ব রূপ সজ্জা।

ক্ষমা করো
গাজী খাইরুল ইসলাম

ক্ষমা করো ইয়া গফুর
আমি যে গুনাহগার,
পাহাড় সম পাপের বোঝা
সয়তে পারি না আর।
তুমি যদি মাফ না করো
নাই তো উপায় জানা,
হে দয়াময় দয়ার সাগর
চাই গো তোমার পানাহ্।
তাওবা জপী মনে প্রাণে
অধম বারেবার।
ওই আরশের মালিক তুমি
তুমি পারো সব,
কবুল করো এ অনুনয়
ওগো আমার রব।
আমি পাপী বান্দাহ্ তোমার
এই অনুতাপ রেখো,
নিদান কালের সমায় এলে
পাশে আমার থেকো।
ওগো রহিম ও রহমান
করুণার আধার।

মনোবল
কাজী শপিকুর রহমান

আমরা নাগরিক সাহসী সৈনিক
গড়িব দেশটি আজ,
আগাব সবাই এই পণ করে
পাছে ফেলে ধোঁকাবাজ।
জুলুমবাজ আর অন্যায় অসৎ
আছে কত চাটুকার
কুলুসমুক্ত করিব এবার
রাখিব না অনাচার।
আছে মনোবল সাহস নিয়া
নাম জপে স্রষ্টার
সমবৃদ্ধি আর সুখ-শান্তিতে
ভরে উঠুক দেশটার।
আত্মা আমার শান্তি পাবে
এই দুনিয়া ছাড়ি
স্বর্গের নীড়ে আবাস যদি
গড়িয়া যেতে পারি।

বেকারের দাম নেই
জাহিদ মাহবুর

বেকারের মূল নেই
দাম একচুল নেই
কষ্টের তুল নেই
চারিদিকে দুরছাই-
দাঁড়াবার কূল নেই।
বেকারের কাম নেই
কানাকড়ি দাম নেই
ডান কিবা বাম নেই
সয়ে গেছে সবকিছু
পিঠে ছাল চাম নেই।
বেকারের কেশ নেই
ভাবনার শেষ নেই
খানাপিনা তেষ নেই
অবহেলা চারিদিকে
যেন তার দেশ নেই।
বেকারের ভাত নেই
দিন কিবা রাত নেই
কোন কাজে হাত নেই
দেনা তার সবখানে
পাওনার খাত নেই।
বেকারের কাজ নেই
মেজাজের ঝাঁঝ নেই
শুরু শেষ মাঝ নেই
এলোমেলো জামা প্যান্ট
কিরিজের ভাঁজ নেই।
বেকারের বাসা নেই
মানিব্যাগ ঠাসা নেই
সোনা রূপা কাঁসা নেই
প্রেমিকাও ছেড়ে গেছে
ফিরে পাবে আশা নেই।

টাকা
শারমিন কবিতা

একটুকরো কাগজ আমি
আমার অনেক নাম,
হরেক রকম ছাপিয়ে দিলে
আমার কত দাম।
আমার জন্য হানাহানি
ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই,
আমার পিছু ছুটে বেড়ায়
ধনী, গরীব সবাই।
আমায় ছাড়া মূল্যহীন
জগৎ জুড়ে সবাই,
আমায় পেলে পূর্ণ হয়
সবার মনের দাবী,
যার কাছে থাকি আমি
করে সে বড়াই।
ফিরে দেখেনা কেউ কখনো
আমি যেথায় নাই,
আমায় পেতে শত বাঁধা
শত অশান্তি,
আমার পিছু ছুটতে তবু
হয়না ক্লান্তি।
নতুন, পুরান, সাদা-কালো
আমি হলাম টাকা,
আমার জন্যে সোনার দেশে
অন্ধকারে পড়ে ঢাকা।

যুদ্ধের ডাক
ইস্রাফিল হোসেন বিকু

একি শুনিরে, একি শুনি
বারবার ডাকে যুদ্ধের মাঠে,
ডাক নয় যেন কামানের গুলি
একি শুনিরে, একি শুনি।
ডাকের আওয়াজ দরজা ভেঙে
ঢুকিল ঘরের ভিতর,
বিকরিয়ে উঠে গায়ের রক্ত
রাখিব না আর ইতর।
ডাকের ভাষা এতটা মধুর
কাঁপছে মাটি থরথর
বলছে যেন সব মানুষে
যুদ্ধ তোমরা কর।
লোহো কপাট ইস্টিলের ইস্পাত
হোক না শক্তিশালী,
ভাঙিয়া বুঝাও আমরা মানুষ
আমরা যে বাঙালী।
শত শতবার, আর কত বার
সহিব অবহেলা,
সময় এসেছে প্রতিবাদের আজ
খেলিব রক্তের খেলা।
একটি কথা বারবার
আসছে বাতাসে ভেসে,
মজিবর যেন ডাকছে মানুষের
বাংলা ভালবেসে।
আমার কানে আজও শুনি
মায়ের মুখের বুলি,
কেমন করে ভাষা পাল্টাবে।

মোনাজাত
মো: কবিরুজ্জামান

সকল প্রশংসা আল্লাহ
তোমার জন্য,
সারাজাহানের রব
হে এক ও অনন্য।
হে মেহেরবান, দয়াময়,
বিচার দিবসের মালিক
আমরা তোমার করি বন্দিগী
তোমার সাহায্য মাগি
পেয়ে হই নির্ভীক।
আমাদের তুমি দেখাও সোজাপথ
দেখাও ঐ সব লোকের পথ
যাদের তুমি দিয়েছো নিয়ামত।
তাদের পথে নয় যারা
হয়েছে দিশেহারা।

বস্তি অনেক ভালো
আশরাফুল আলম

কেন যে গরীব জন্ম নিলো
এই দুনিয়ার পরে,
ওদের কথা শুনলে যেন
গা ঘিন ঘিন করে।
ঘর নেই দোর নেই
ফুট পাতেই বাস
চাল নেই চুলো নেই,
করছে সর্বনাশ।
রাত নেই দিন নেই
ঘোরে ওলি গলি,
চাকরি নেই, বাকরি নেই,
ফাঁকা ওদের থলি।
আশা নেই ভরসা নেই,
কি যে ওরা করে?
খাওয়া নেই, দাওয়া নেই
খেটে খেটে মরে।
নো চিন্তা ডু ফূর্তি
তবু ওরাই করে
ধনীদের ঘুম নেই
ভেবে ভেবে মরে।
কখন আসে ভূমিকম্প
কখন চোর ডাকাত,
কখন আবার দুম ফুঠাস
করে বাজিমাত।
বুকটা কাঁপে দুরু দুরু
এই বুঝি এলো
পালঙ্কতে শোয়ার চেয়েও
বস্তি অনেক ভালো।

কৃষক
এম ডি আবু সায়েম

হে কবি এখনও ঘুমিয়ে আছো
ঘুচিয়ে দেখো দুয়ার
কে যেন দাঁড়িয়ে আছে
মহাবীর বেশে।
যার কাঁধে লাঙল
শিরে সোনার বোঝা
হাঁটনে বাজে পায়েল বাঁশী
সে ঐ পল্লীর বোবা কৃষক।
ঋতুর নির্বাচন নিয়ে এসেছে
দেখো চেয়ে দেখো….
একবিন্দু চোখ পলকে
গায়ে কত ঘাম ঝরছে
মাথায় ইরি ধানের বোঝা
ঝনঝন বাজছে।
অবুঝ অবেলা ফুটিয়েছে কত ফুল
একটার পর একটা ফসল
দিয়েছে জাতির কাছে উপহার,
নিদ্রা অলস মাটির ঘুম ভেঙে
শিহরণ দিয়েছে কত উপায়
ঋতুর চক্রে ঋতু সৌন্দর্য্য
যৌনতার প্রকাশ পায়।
প্রকৃতি আর মাঠ ঘাটে
সবুজের ছন্দে ছন্দে কত
গানের আসর বসে।
কত ধানের পিঠায় পোড়ার নব্বানে
সে তো অমৃত্য যৌবনা সুধা পহেলা বৈশাখ
সে এক নবীন কর্মী।
দু:খ মুছে দেয় শীতলতায়
হৃদয় রাঙিয়ে দেয় ঋতুর কাব্যে
নানা ছন্দে আর গন্ধে
সারা বাংলাদেশ।

শ্রাবণ মাস
আব্দুল আউয়াল

শ্রাবণ মাসে আকাশজুড়ে
চলে মেঘের খেলা
টাপুর টাপুর বৃষ্টি যেন
পড়ে সারা বেলা।
কদম ফুলে সুভাস নিতে
ছুটে ছোট্ট মেয়ে
কাদায় মেখে একটি ছেলে
যায় গান গেয়ে।
নকশি কাঁথায় তুলছে ফোঁড়
কৃষাণীর নিজ গৃহে
আর সাথী গাইছে গান
অন্তরের বিরহে।

প্রেম জাহান
এস.এম. মেহেদী হাসান

প্রেমেতে পামর পান্থ আমি,
পর কখনো হয় না আপন
এই কথাটা জানি।
মন সিন্ধু হঠাৎ যেন
ভরলো ভালবাসায়,
আনন্দতে মজিলাম আজে
বসন্ত পিক আসায়।
জানিতাম না খুবই ঠুকনা
এ প্রেমে পরবাসী,
বুঝিনিতো নীরবেই আজ
কেড়ে নিল মোর হাসি।
নয়ন লোচে ভিজিল বক্ষ
ভিজিল তুলার বালিশ,
এ কষ্ট কোথায় রাখবো
কারে করবো নালিশ।
প্রথম কেহ আসলো মনে
ভরলো সিন্ধু প্রেমে,
কিন্তু তখন বোঝেনি এ মন
শেষ হবে এক দমে।
সিন্ধু পূর্ণ লোচ নিয়ে এখন
কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়,
আজকে আমার সিন্ধুতে লোচ
কেমনে বলো সরাই।
হটাৎ প্রেমের পরিণতি
বুঝিলাম অবশেষ,
আমার প্রেমে হইলো ইতি
থাকবে জাহান বেশ।

মাধবী
আহসান উল্লাহ সান

চলতে চলতে বহুদূর…
পড়তে পড়তে ভরপুর
গাইতে গাইতে কত সুর।
চলতে চলতে গিয়েছি মাধবী বন
পড়তে পড়তে পড়েছি মাধবী মন
গাইতে গাইতে গেয়েছি মাধবী গান।
চলতে চলতে দেখেছি মাধবী ছায়া
পড়তে পড়তে জেনেছি মাধবী কায়া
গাইতে গাইতে ভুলেছি মাধবী মায়া।
চোখের সামনে তবে এ কোন্ মাধবী আজ
ঘরের বাহিরে থেকে যেন এক বৃক্ষলতা
লতিয়ে লাতিয়ে ভেতরে এলো তো বেশ
ওহ! ফুলের হাতে মাধবী ফুল
খোঁপা ও কানে মাধবী দুল
দু’ চোখে আঁকা পথ না চেনা ভুল
দীপিত আলিঙ্গণের আহবানে
নিয়ত মুখরিত নিরম্বু দেহলতা
প্রস্ফুটির প্রসন্ন যৌবন সারী শেকড়ের টান
অথচ আমার আজ
চলতে চলতে চলা শেষ
পড়তে পড়তে পড়া পোঁপড়িতে আকুলিত ঘ্রাণ
বাইরে তখন প্রখর দিনের আলো
উথাল তরঙ্গে মাতাল নদী যে এলোমোলো
বাংলার উর্বর মাটিতে প্রতিশেষ
ও মাধবী আমার
কোথায় পেলে এ নাম তুমি?

চাইলেই বৃষ্টি পাবে
পঞ্চানন মল্লিক

মেঘের নূপুর আজ মেশে গিয়েছে
কদমের বোটায়
বেপরোয়া ভিজে যায় কদম কন্যারা
বাদলের ¯্রােতে
মাঠ-ঘাট নর্দমায় থৈ-থৈ জমেছে
বৃক্ষে শাখেও
উঠোনে-কার্নিশে বাকেট বাকেট আছে
লন ও ছাদে
চাইলেই অফুরন্ত বৃষ্টি পাবে এখন
আকাশের ওয়েবে
কদমের মত করে আরেকটু ভেজো
হুহুহু হাহাহা হুহু।

বঙ্গদেশে হাজার নদী
আফসার আশরাফী

মন ছুটে যায় গাঁয়ের পানে-নদীর ওপার যেতে
স্বর্গ সুখের আলো মাখা-সুভাস হাওয়া পেতে।
বঙ্গদেশে হাজার নদী-মাঝি ভাইয়ের সুর
কিচিরমিচির শব্দ শুনে-কাটুক আমার ভোর।
শত পাখি গাছের ডালে-নেচে করে খেলা
এসব দৃশ্য দেখে যেন কেটে যায় বেলা
ঝিলের জলে শাপলা ফোটে-বক আসে উড়ে
সাদা বক মাছ ধরে উড়ে যায় দূরে।
দিঘীর জলে রাজহাঁস ভেসে করে খেলা
এমন করে দিঘীর পাড়ে কাটায় তারা বেলা
সন্ধ্যা হলে ফিরে ঘরে রাত্রি করে পার
স্বপ্ন সুখে দিন যায় বেঁচে থেকে তার।
ডোবার উপর গাছের ডালে রোজ বিকেলে আসে
মাছরাঙা মাছ খেতে গাছের ডালে বসে।
আনন্দেতে পানির উপর দেয় যে পাখি দৃষ্টি
ঠিক তখনি আকাশ থেকে ঝরে পড়ে বৃষ্টি।
বৃষ্টির আবাস পেয়ে যখন মাছ ভাসে পানিতে
উড়াল দিয়ে ছুটে যায় ধরে মাছ আনিতে।
পুঁটি মাছ ধরে পাখি উড়ে যায় ডালে
বসে থেকে চেয়ে থাকে বার বার খালে।

চিরশয়ন
সুমাইয়া আক্তার আশা

আর ডেকো না ঘুমিয়ে আছে তোমার বুকের ধন,
নিদ্রাতে সে হয়ে গেল আজকে অচেতন।
পারবে না আর জাগাতে তারে যতই তুমি ডাকো,
চিরতরে হারিয়ে যাবে কভূ ফিরবে নাকো।
দু’ চোখ মেলে দেখো মা তার হাসি মাখা মুখ,
কেন এমন মলিন হল কিসের তাহার দুখ।
একটিবারও বলেনি সে সফর দিবে হায়,
মুখের কথা শুনিনি তাই দু:খ রয়ে যায়।
বুঝতাম যদি চিরসুখে বোনটি মোর ঘুমাবে,
মনের কথা সবই খুলে বলে দিতাম আগে।
কত কথা বলার ছিল বলা হল না,
সেই যে গেল বোনটি আজও ফিরে এলো না।
এই সফর জানি কভূ শেষ হবার নয়,
সেই কারণে মনের কথা মনেই থেকে যায়।

মাকে আমরা ভালোবাসি
মুহাম্মদ ইসমাঈল

মাকে আমরা ভালোবাসি
আবার কেউ কেউ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে ও পাঠাই
অথচ একটিবার ভাবি না
শিশুকালে মা তো আমাকে কোথাও দত্তক দেয়নি
ফেলে দেয়নি।
একটি বারও গভীর চিন্তা করেছি,
জন্মের পর গর্ভধারিণী মা আমাকে আড়াই বৎসর
দুগ্ধ পান করিয়েছে
আড়াই বৎসরে আমরা দুধ খেয়েছে ৭৬ মন।
যা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে
কোরান তো ১৫০০ বছর পূর্বে বলে দিয়েছে।
প্রতিটি দুধের ফোঁটার বিনিময়ে
একটি করে যদি পৃথিবী উপঢৌকন দেই মাকে
স্বর্ণের চেয়ারে বসে আরাম করতে দেই
হীরার খাটে শুইতে দেই
নিজের হাতে খাওয়াই
নিজের হাতে গোসল দেই
তারপর ও একটি দুধের ফোঁটার হক আদায়
হবে না।
সুতরাং বৃদ্ধাশ্রমকে আমরা না বলি
মায়ের কাছেই থাকি।