কেমন হওয়া উচিৎ ২০১৯ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ স্কোয়াড?

ফুলকি ডেস্ক:  প্রথমত, মাথায় রাখতে হবে কোথায় এবং কি ধরনের পিচে খেলা হবে। দ্বিতীয়ত, সে অনুযায়ী বেস্ট স্কোয়াড গড়ে তুলতে হবে। আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি ইংল্যান্ডের মাটিতে অহরহ ৩০০+ থেকে ৪০০ রান পর্যন্ত উঠতে। তবে খেলাটা যেহেতু বৈশ্বিক এবং অনেকগুলো দলের অংশগ্রহণে হবে সেহেতু এই ধরনের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে আইসিসি কখনই একতরফা ফ্ল্যাট পিচ বানায় না বরং এমন স্পোর্টিং পিচ বানায় যেখানে ব্যাটসম্যানরা চাইলে ৩০০ রানও করতে পারবে আবার বোলাররা চাইলে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটও নিতে পারবে।

প্রমাণ হিসেবে চাইলে গত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর দিকে তাকালেই বুঝা যাবে। সে হিসেবে আমাদের টিমটাকেও এমন কিছু প্লেয়ার দিয়ে তৈরি করা উচিৎ যাতে আমাদের ব্যাটসম্যানরা চাইলে ৩০০ রানও করতে পারবে আবার বোলাররা চাইলে ১০ উইকেটও নিতে পারবে।

তবে সব ম্যাচেই সেম পিচ থাকবে এমনটা ভাবাও বোকামি। কিছু কিছু পিচ থাকবে যেখানে ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দে রান তুলতে পারবে এবং বোলারদেরকে উইকেট পেতে পরিশ্রম করতে হবে। আবার এমন কিছু পিচ থাকবে যেখানে বোলাররা সুবিধা পাবে কিন্তু ব্যাটসম্যানরা রান তুলতে কষ্ট করতে হবে। যেখানে ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দে রান তুলতে পারবে আমি এমন পিচে ৩ পেসার এবং যেসব পিচে বোলাররা সুবিধা পাবে আমি এমন পিচে ৪ পেসার খেলানোর পক্ষপাতী।

এখন আসি আমাদের স্কোয়াড ভাবনায়। প্রথমত, ওপেনিং নিয়ে আলোচনা করা যাক। ওপেনিং এ তামিম ইকবাল অটোচয়েস, তার বিকল্প নেই। যেহেতু তামিম এখন স্লো খেলে তবুও তার উচিৎ স্ট্রাইক রেটটা নিয়ে কাজ করা। যদি সে তার স্ট্রাইক রেট ৮৫+ রাখতে পারে তবে আমার মনে হয় তামিমের জন্য এটাই যথেষ্ঠ হবে। তবে মূল কাজটা করতে হবে তামিমের পার্টনারকে। তামিম একপ্রান্ত ৮৫+ স্ট্রাইকরেটে ধরে খেলতে পারলে তার পার্টনারের উচিৎ হবে হাত খুলে খেলা। হাত খুলে খেলার জন্য আমি তামিমের পার্টনার হিসেবে লিটন দাস এবং সৌম্য সরকারকেই এগিয়ে রাখব।

আনামুল বিজয়কে আমি আপাতত ভাবনায় আনতে পারছি না বলে দুঃখিত। এক্ষেত্রে কোচের উচিৎ হবে তাদেরকে এটাকিং খেলার জন্য ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে দেয়া। তারা যদি ১০০+ স্ট্রাইক রেটে খেলতে পারে তবে আমার মনে হয় আমরা একটা ভাল শুরু পাব। তামিম ৮৫+ এবং তার পার্টনারের ১০০+ স্ট্রাইক রেটে রান তুলতে পারলে ১০ ওভারে আমাদের রান আসবে ৬০ এর মত চলে আসবে আশা করি।যেটা খুবই উপকারী হবে দলের জন্য। যদি তামিমের ওপেনিং পার্টনার আউটও হয়ে যায় তবে ওয়ান ডাউনে নামা সাকিবকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। সাকিব অনেক অভিজ্ঞ এবং বহুজাতিক টুর্নামেন্ট খেলে অভ্যস্ত। তাকে উইকেটে টিকে রান তুলতে হবে। কারণ একটা দলের ওয়ান ডাউন বা ৩ নাম্বারে নামা খেলোয়াড়টিই দলের রান মেশিন বলে আমি মনে করি।

গেল ওপেনিং এবং ওয়ান ডাউনের কথা, এবার আসি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের চিন্তায়। সাকিবের পর অবশ্যই এবং অবশ্যই মুশফিককে সুযোগ দিতে হবে। আমাদের লাক ভাল যে আমাদের টিমে মুশির মত একজন সলিড ব্যাটসম্যান আছে যে কিনা বল বাই বল সিঙ্গেল নিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে পারে আবার প্রয়োজনের সময় এটাকিং খেলে রানকে অনেক দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে।

মুশির পর এমন কাউকে দরকার যে অতটা এটাকিংও খেলবে না আবার অতটা মন্থর খেলাও খেলবে না। এমন কাউকে লাগবে যে সিঙ্গেল বের করে রানের চাকা সচল রাখতে পারবে আবার বল বুঝে বাউন্ডারিও মারতে পারবে। দুঃখের বিষয় এই পজিশনে আমার দেখা বেস্ট অপশন হতে পারত নাসির হোসেইন। আফসোস সে তার ক্যারিয়ারটিকে নিজ হাতে মাটি করে দিল। যেহেতু নাসির নেই আমার মনে হয় এক্ষেত্রে মোসাদ্দেক এবং শান্তকে সুযোগ দিয়ে গড়ে তোলা দরকার। আফসোস মেহেদি মিরাজও এই পজিশনে বেস্ট ছিল, কিন্তু ছেলেটা ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে গড়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পারল না।

লোয়ার মিডল অর্ডারে আমাদের জন্য আশির্বাদের এরেক নাম মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। টেস্টের রিয়াদ নয়, ওডিয়াই এবং টি টুয়েন্টির রিয়াদের কথাই ভাবছি আমি। যে খুব দ্রুত রান তুলতে পারে যেটা আমাদের টিমের জন্য অনেক বড় পাওয়া। রিয়াদের মত যদি আরেকজন প্লেয়ার আমাদের টিমে থাকে তাহলে আমাদের জন্য ৩০০+ রান করাটা কোন ব্যাপারই হবে না বলে আমি মনে করি। আমাদের কিন্তু এই পজিশনে যথেষ্ঠ অপশনও রয়েছে।

এক্ষেত্রে আমার প্রথম চয়েস আরিফুল হক। ছেলেটাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে রিয়াদের সাথে থিতু হওয়ার সময় দেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। সে আমাদের দলের জন্য একটা বিরাট পাওয়া বলেই আমার বিশ্বাস। এই পজিশনে আমার আরও দুটি পছন্দ হচ্ছে সাব্বির এবং সাইফুদ্দিন। আফসোস, সাব্বিরও এখন নাসিরের পথে হাটছে আর সাইফুদ্দিন তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারে নি।

এবার আসি বোলিং ডিপার্টমেন্টের ভাবনায়। স্পিনারের মধ্যে আমার মনে হয় এখন ট্র‍্যাকে আছে শুধুমাত্র নাজমুল অপু এবং মেহেদি মিরাজ। আরো কয়েকটা অপশনের মধ্যে থাকতে পারত তাইজুল, আরাফাত সানি এবং আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু আমাদের এমন এক বোর্ড আছে যারা কোন প্লেয়ার টিম থেকে বাইরে চলে গেলে তাকে মেরামত করে টিমে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনবোধ করে না যদি না তারা আবার নিজ যোগ্যতায় ফিরে আসতে চায়। আমার এই পোস্টটি তাই আফসোস আর আফসোসেই টইটম্বুর। পেসারদের মধ্যে ভরসার নাম ম্যাশ।

গুড লাইন এন্ড লেংথ এবং উইকেট টেকিং বোলার ম্যাশের সাথে থাকতে পারে রুবেল, মুস্তাফিজ, আবু হায়দার রনি এবং আবু জায়েদ রাহি। খুশি হতাম যদি এই লিস্টে আল আমিন হোসাইন নিজেকে ধরে রাখতে পারত। ম্যাশ নিজেও চায় ছেলেটা ফিরে আসুক কিন্তু যে নিজে চেষ্টা করে না তাকে কেইবা ফিরিয়ে আনতে পারবে।

সুতরাং, ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য আমাদের স্কোয়াডটা যেরকম হওয়া উচিৎ তা হল-

তামিম ইকবাল, লিটন দাস/সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন/নাজমুল হোসাইন শান্ত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক/সাব্বির রহমান, নাজমুল অপু/মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল/রনি/রাহি।

এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত বা চিন্তা ভাবনা থেকে তৈরি করা স্কোয়াড। আমার মনে হয় পজিশন অনুযায়ী এই ১৭ জন খেলোয়াড়কে দিয়েই আমাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড তৈরির জন্য এখন থেকেই কাজ করা উচিৎ। আমার সাথে আপনাদের চিন্তাভাবনার মিল নাও থাকতে পারে। আশা করব কেউ অন্যভাবে না নিয়ে আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করবেন।

লেখক-ধ্রুব নয়ন

লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া।