আসাম থেকে ৫২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত

ফুলকি ডেস্ক : আসাম প্রদেশে বসবাসরত ৫২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। বুধবার দেশটির আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, অবৈধ এসব বাংলাদেশিকে ওইদিন সকাল ১১টায় আসামের মানকাচর সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হবে।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসকারী ৪০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে এবং তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে তারা কোনোভাবে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেদের দাবি করতে না পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, আসাম থেকে ৫২ অবৈধ বাংলাদেশিকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ফেরত পাঠানো হবে। রাজ্যসভাকে তিনি জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের সঙ্গে নয়াদিল্লির আলোচনা চলছে।

রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, এই বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। প্রয়োজন হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করবে। রাজনাথ সিং বলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। দেশটির সরকার সেদেশে অবস্থানরত ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরাতে আগ্রহী। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছে, কারণ ভারতের সবোর্চ্চ আদালতে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। আদালতে ঝুলে থাকা একটি রিটের বরাত দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছে। রোহিঙ্গারা যদি বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার চেষ্টা করে তাহলে তাদের দ্রুত ফিরিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান রাজনাথ। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কেন্দ্র থেকে দেশ দু’টির চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমি এখানে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, রোহিঙ্গারা দেশটির জম্মু-কাশ্মির, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, উত্তর প্রদেশের পশ্চিমে, দিল্লি এবং জয়পুরে বসবাস করছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারী এসব রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত এবং ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে এসব রাজ্যকে কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।