সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন বিদেশিরা

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ তিন সিটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন বিদেশী দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তারা। সিটি নির্বাচনের উপর তীক্ষè নজর রয়েছে তাদের।

সরেজমিনে এবার রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। এ জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ১৮ জনের নামে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড ইস্যুর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করবেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বিগত দু’টি, আসন্ন তিন সিটি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, তিন সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন দূতাবাস থেকে আবেদন সংবলিত পাঁচজনের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজশাহীতে সিটি তিনজন, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। দূতাবাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে পাঁচজনের পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেয়া হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) ৯জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৪জন, সিলেটে ৩জন এবং বরিশালে ২জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন। ইউএসএইড নামের আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৪জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ করে গত ২৬ জুন গাজীপুর ও গত ১৫ মে খুলনা নির্বাচনের চেয়ে বরং রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বেশি দৃষ্টি রাখছে বিদেশিরা। এই তিন সিটির মধ্যে রাজশাহীর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ বেশি। এই সিটিতে বেশি পর্যবেক্ষণ পাঠানো হচ্ছে।

বিদেশিদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান আরজু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও দু’টি সংস্থার মোট ১৮জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে আবেদন করেছে। কমিশনও সংশ্লিষ্টদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শুরু থেকেই সরব যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি নির্বাচন পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে মার্কিন দূতাবাসের একাধিক টিম শহর ঘুরে বেড়িয়েছে। খুলনা ও সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে গাজীপুর ও খুলনার নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত করা এবং আসন্ন ৩ সিটির নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত করার তাগিদও দিয়েছিলেন তিনি। গত ১ জুলাই নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে খুলনা ও গাজীপুর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের উদ্বেগেরও জবাব দেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। ওই দুই সিটিতে অনিয়মের ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ দেয়ার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে-যুক্তরাজ্যের তরফে দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনের রাজনৈতিক বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইলেকশন অবজার্ভার টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে যাচ্ছেন। বাকিরা ঢাকায় বসে প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে ভোটের মাঠের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে যুক্তরাজ্যের একটি টিম গত ২৪ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত বরিশালে থাকার কথা রয়েছে। এরপর ওই টিমটি সিলেট সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাওয়ার কথা। এ ছাড়া শুরু থেকে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। এ ছাড়াও জাপান, কানাডা, জার্মানির কূটনীতিকরাও নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।