হটাৎ ঘুম ভেঙে যায়? তাহলে মারত্মক ৫রোগে আক্রান্ত আপনি

ফুলকি ডেস্ক: নিশ্চিন্তে আট ঘন্টা নিয়মিত ঘুম অনেকেরই হয় না। অনেকের সহজে ঘুম আসে না, কেউবা ঘুমের মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখেন, কেউ মাঝরাতে উদ্ভট সময়ে জেগে যান প্রতি রাতে। এ ব্যাপারটায় অনেকেরই খটকা লাগতে পারে। কেন প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুম ভাঙবে?

এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে চৈনিক চিকিৎসাবিদ্যায়। ‘চাইনিজ অর্গান বডি ক্লক’ অনুযায়ী, শরীরের একেক অঙ্গের সমস্যার কারণে রাতে একেক সময়ে ঘুম ভেঙে যায়।

১) রাত ৯টা থেকে ১১টা- থাইরয়েড

এ সময়টায় শরীরের এন্ডোক্রাইন সিস্টেম নিজেকে সারিয়ে তোলে এবং আমাদের রক্তনালীগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময়ে হুট করে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অর্থ হলো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি বা মেটাবোলিজমের কোনো একটা সমস্যা রয়েছে আপনার শরীরে।

২) রাত ১১টা থেকে ১টা- গলব্লাডার

গলব্লাডার বা পিত্তথলির কাজ হলো পিত্তরস উৎপাদন। এতে হজম সহজ হয়। রাত ১১টা থেকে ১টার মাঝে ঘুম ভেঙে গেলে বুঝতে হবে হয় আপনার পিত্তে পাথর আছে, অথবা আপনার চর্বি খাওয়া কমাতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর তেল খেতে হবে। শুধু তাই নয়, অসন্তুষ্টি, আত্মবিশ্বাসের অভাব, ঘৃণা এবং বিতৃষ্ণা মনের মাঝে পুষে রাখলেও এ সময়ে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

৩) রাত ১টা থেকে ৩টা- যকৃত

লিভার বা যকৃতের কাজ হলো শরীর থেকে বিষাক্ত অ অপ্রয়োজনীয় পদার্থ দূর করা। এ সময়ে ঘুম ভেঙে যাবার অর্থ হলো আপনার শরীরে বিষাক্ত পদার্থ অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। আপনার উচিত হবে চা-কফি পান, মদ্যপান এবং ধূমপান কমিয়ে আনা বা বাদ দেওয়া। অতিরিক্ত রাগ, হতাশা এবং অপরাধবোধ থেকেও এ সময়ে ঘুম ভাঙতে পারে।

৪) রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা- ফুসফুস

নতুন দিনের প্রস্তুতি হিসেবে আপনার ফুসফুস এ সময়ে কাজ করতে থাকে। এ সময়ে যদি ঘুম ভেঙে যায় এবং নাক বন্ধ থাকা, কাশি বা হাঁচি হয়, তারমানে আপনার ফুসফুসের যত্ন নেওয়া উচিৎ এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা উচিৎ। দুঃখ এবং শোকের আধিক্য থেকেও এ সময়ে ঘুম ভাঙে অনেকের। শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম এ সময়ে আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে।

৫) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা- বৃহদান্ত্র

ভোরবেলায় শরীর থেকে বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য প্রস্তুত হয় আপনার বৃহদান্ত্র। এ সময়ে ঘুম ভেঙে যেতে পারে বৃহদান্ত্রের সমস্যার কারণে। দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, ওজন বৃদ্ধি, এমনকি কম বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া। এসব সমস্যা দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, পেশীর ব্যায়াম করুন এবং ঘুম থেকে উঠেই টয়লেটের কাজ সারুন।