ছোট দলগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে যখনই জাতীয় নির্বাচনের সময় হয় তখন ছোট ছোট দলগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যায়। দলগুলোর তেমন জনসমর্থন কিংবা ভোট নেই কিন্তু অনেক বড় বড় নেতা আছেন, নির্বাচন আসলে এমন দলগুলোর গুরুত্ব বাড়ে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও গত কয়েক মাস ধরে ছোট ছোট দলগুলোর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি উভয় দলই চেষ্টা করছে দলগুলোকে নিজ নিজ জোটে টানার জন্য। এই উদ্দেশ্যে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাম দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করতে যান।

শুধু সিপিবিই নয়, আওয়ামী লীগের সূত্রানুযায়ী দলটি অন্যান্য বাম দলের সঙ্গেও জোট করতে আগ্রহী। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী, এলডিপির সঙ্গেও যোগাযোগ আছে আওয়ামী লীগের। বি. চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গেও আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনী সমঝোতা করতে চায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য অথবা গোপনে আলোচনা করছে।

এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য হলো, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি যেন এবার আর তৈরি না হয়। ঐক্যবদ্ধভাবে না হলেও সবগুলো দল যাতে অন্তত আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচন করে সে রকম পরিবেশ সৃষ্টি করতে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০১৪’র নির্বাচনে সিপিবি, বামফ্রন্টসহ সমাজতান্ত্রিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছিল। এবার আর এর পুনরাবৃত্তি চায় না আওয়ামী লীগ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সিপিবির সঙ্গে তাঁরা মিটিং করেছে, বামফ্রন্টের সঙ্গেও তাঁরা মিটিং করবে। আওয়ামী লীগ মূলত যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে এরকম দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে, এই ঘরানার দলগুলোর সঙ্গেই নির্বাচন নিয়ে তাঁরা আলাপ-আলোচনা করছে।

বিএনপিও কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নাই। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটিও চেষ্টা করছে ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করার। তাঁদের মূল টার্গেট হলো যুক্তফ্রন্ট, আর দলটির নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। এছাড়া দেশের ইসলামী ও দক্ষিণপন্থী দলগুলোকেও নিজেদের জোটে ফেরানোর জন্য বিএনপি অনেকভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। গাজীপুরের নির্বাচনে ইসলামী রাজনৈতিক দল হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বিএনপি প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারকে সমর্থন না দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেওয়ায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্ম খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এছাড়া ২০ দলীয় জোটেরও এখন টালমাটাল অবস্থা। সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীমের কল্যাণ পার্টির মতো একাধিক দল এই জোটে থাকতে চাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বিএনপির জোট গড়ার প্রচেষ্টা খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের পরিসীমাটি বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল ঠিকই কিন্তু হাসানুল হক ইনু এবং মঈন উদ্দিন খান বাদল বা দিলীপ বড়ুয়ার মতো ১৪ দলের অনেক নেতা ১৪ দলের আয়তন বৃদ্ধি করার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তাই আওয়ামী জোট করার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছু হটে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ চাচ্ছে যেসব ছোট দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে সেসব দল নিয়ে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ জোট সৃষ্টি করতে না পারলেও এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়। কারণ আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংক জানে, এই দলগুলোর ভোট নেই কিন্তু সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এদের গুরুত্ব আছে। এই দলগুলো নির্বাচনে আসলে দেশি-বিদেশি মহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাও বেড়ে যাবে।

আরেকটি বিষয় হলো, এই ছোট দলগুলোর নেতাদের গলার আওয়াজ অনেক বেশি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়। তাই এই নেতারা কোনো টক শো বা ফোরামে যখন কোনো দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন সেই দলটি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়। তাই আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলই চাইছে এদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে। নির্বাচনী বছরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলই চেষ্টা করছে ছোট দলগুলোর মন জয় করতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারা সফল হবে তা বোঝার অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়।