‘আমার সুইসাইড এর একমাত্র কারন রিমি মেডাম…’

ফুলকি ডেস্ক:  ১৪ বছরের কিশোরী মালিহা, দশম শ্রেণিতে পড়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে। পুরো নাম সুমাইয়া আক্তার মালিহা, গত ২৪ জুলাই তাদের বাসা থেকেই এই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিজের খাতায় আত্মহত্যার কারন লিখে আত্মহত্যা করেছে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার গুলবাগের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মালিহা। পুলিশ মালিহার মৃতদেহ উদ্ধার করে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তার ময়না তদন্ত হয়।

সুইসাইড নোটে মালিহা লিখেছিল, ‘আমার ‍Suicideকরার কারন একমাত্র রিমি মেডাম। সে শুধু আমাকে দেখে তার জিদ কমানোর জন্য। সে অযথা পরীক্ষায় আমার খাতা নিসে। আর পরীক্ষায় কম নাম্বার দিসে। তোমরা যদি পার তাহলে সে মেডামের মানসিক চিকিৎসা দাও। Mental Hospital এ পাঠাও। মেডাম আমারে অভিশাপ দিসে, তাই আমি ভালো result খারাপ হইছে। Maliha’

এর পর মামলা হলে পুলিশ রিমি আক্তার নামের ওই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘গতকাল রাতে খবর পেয়ে ওই বাসায় গেলে মেয়েটিকে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

জানাযায়, মালিহা শহীদ ফারুক ইকবাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত দশ বারো দিন আগে তার পরীক্ষা শেষ হয়। পরিবারের অভিযোগ, মালিহার কাছ থেকেই তারা জানতে পেরেছেন, পরীক্ষার সময় স্কুলের ব্যবসা শিক্ষার শিক্ষিকা রেমি আক্তার মালিহার পরীক্ষার খাতা কেড়ে নেন।

মালিহার পরিবার সূত্রে জানাযায়, বিষয়টি নিয়ে মালিহা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরীক্ষায় তার ফল খারাপ হবে বলে ধারণা করতে থাকে। গত মঙ্গলবার রাতে মালিহার মা মুনমুন বেগম ছোট মেয়ে সামিহাকে নিয়ে পাশের ঘরে ছিলেন। মালিহা তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে দেখে ফ্যানের ঝুলন্ত মৃতদেহ।