মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত: ছাত্রলীগ

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় মানহানির মামলায় জামিন নিতে এসে আদালত চত্বরে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত নয় বলে দাবি করেছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শহরের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমনটা দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার। এসময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করে বলেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মাহমুদুর রহমানকে আদালত চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যান। তার পর দুর্বৃত্তরা মুখে গামছা বেঁধে হামলা চালায়। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু আদর্শের সৈনিক। ছাত্রলীগ কখনো মুখে গামছা বেঁধে হামলা করে না। এটা বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের।

সাদ আহাম্মেদ প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘হামলায় তো কোনো বিএনপি নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীকে আহত হতে দেখা যায়নি। এটাই প্রমাণ করে যে নির্বাচন সামনে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’ তুষার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমি মামলার বাদী। ঘটনার দিন রোববার (২২ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমরা আদালত চত্বরে অবস্থান করি। শুনেছি, আমরা আদালত চত্বর থেকে চলে আসার পর মাহমুদুর রহমান যে গাড়িতে করে কুষ্টিয়া এসেছিলেন, সেই দামি গাড়ি বাদ দিয়ে একটি পুরাতন কম দামি গাড়িতে চড়ে আদালত থেকে বের হন। এ সময় বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় দ্বন্দ্বের কারণে ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে তাদের ক্যাডাররা মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা করে। তাঁর ভাড়া করা পুরাতন প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই ছাত্রলীগ জড়িত নয়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং টিউলিপ সিদ্দিকীকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন। এ মামলায় গত রোববার জামিন নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। হামলায় তার মাথা ও মুখ জখম হয়। এ ছাড়া তাকে বহনকারী গাড়িটি ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালত চত্বর ছাড়েন মাহমুদুর রহমান।