পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন আগামীকাল

ফুলকি অনলাইন: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপরই শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে দেশটির নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দেশজুড়ে সমস্ত কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী সামগ্রী; মোতায়েন করা হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য।

বুধবার সকাল ৮টায় সারাদেশ একযোগে ভোট শুরু হবে। জাতীয় এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১০৫.৯৫ মিলিয়ন। এই ভোটেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাকিস্তানের মজলিশ-ই-সূরা বা সংসদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। জাতীয় সংসদ ও চারটি প্রদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন পাকিস্তানের জনগণ।

ডন জানায়, সোমবার মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের পর দেশজুড়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাদের উপস্থিতিতেই মঙ্গলবার ব্যালট পেপার ও বাক্স কেন্দ্রে কেন্দ্রে পঠিয়ে দেওয়া হয়।

পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ বা পিএমএল-এন ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই উভয় দলই নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া শেষ সময়ের আগে চূড়ান্ত প্রচারণার পাশাপাশি শক্তি প্রদর্শনও করেছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট আসনের অর্ধেকের বেশি আছে পাঞ্জাব প্রদেশে। সরকার গঠনে তাই প্রদেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচনের আগের দিন আনুষ্ঠানিক প্রচারণা বন্ধ থাকলেও লাহোরে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি স্লিপ পৌঁছে দিতে দেখা গেছে।

লাহোরের কয়েকটি স্থানে নারী প্রিসাইডিং অফিসাররা অব্যবস্থপনার অভিযোগ তুলেছেন। করাচিতে ভোটারদের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রগুলোর সামনে।

এছাড়া খাইবারপাখতুন প্রদেশে পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ভোট কেন্দ্রগুলোতে। সঙ্গে ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু,স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে’ সহায়তার জন্য দেশজুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনা মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের নির্বাচনে নওয়াজ শরীফ, ইমরান খান আর বিলাওয়াল ভুট্টোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও মূল লড়াই হবে মূলত নওয়াজ ও ইমরানের মধ্যে।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে পানামা পেপার্স তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পাকিস্তানের আদালত তাকে সরকারি দায়িত্বে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে। এরপর নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই শেহবাজ শরীফ পিএমএল-এন’এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সাবেক ক্রিকেটার ইমারন খানের পিটিআই বিতর্কিত কয়েকটি দলের সমর্থনপুষ্ট, যাদের একটি দলে আল-কায়েদার সাথে বন্ধুভাবাপন্ন। আর পিপিপি প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেয়া জারদারি সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসসম্পন্ন পরিবারের সন্তান।

প্রধান তিন দলের দুই দলই নির্বাচনের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাওয়াজ শরীফের পিএমএল-এন আর ইমরান খানের পিটিআইয়ের মধ্যে জোর লড়াই হবে।

কোনো দলই যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে বিলওয়াল ভুট্টোর পিপিপি ও অন্যান্য দলের সমর্থন জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সেনাবাহিনীর সাথে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠতা ও ইসলামপন্থী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত নরম অনুভূতিসম্পন্ন হওয়ার ধারণার কারণে, পিএমএল-এন নির্বাচনে জিতলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

এছাড়া পিটিআই জিতলে পিএমএল-এন শক্ত আন্দোলনে নামতে পারে, বিশেষত যদি নাওয়াজ শরীফের কারাদণ্ড অব্যাহত থাকে। তবে নির্বাচনে যারাই জয় পাক, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটভূমিতে নিজেদের দাপট ধরে রাখার চেষ্টা করবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানে জাতীয় সংসদের ৩৪২টি আসনের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২৭২ জন জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। বাকি ৭০টি আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের জন্য ও ১০টি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত৷। এছাড়া প্রাদেশিক সভার আরো একশ’ জন সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

দেশটিতে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ৩৪২টির মধ্যে কমপক্ষে ১৭২টি আসন জিততে হবে।

বুধবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জানা যাবে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে চলা নানা নাটকীয়তার অবসান কী হতে যাচ্ছে নাকি প্রভাবশালী সেনাবাহিনীই আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়া অব্যাহত রাখবে।