দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিজয়ের ভবিষ্যৎ কি হবে? মাশরাফি দিলেন থাকার ইঙ্গিত

ফুলকি ডেস্ক: ‘ওকে তিন ওয়ানডের সিরিজের জন্য এখানে আনা হয়েছে। তিন বল দেখেই ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য নয়। দেখা যাক না, কী হয়।’

এভাবেই এনামুল হক বিজয়ের ব্যাপারে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা।

বোঝা গেল রবিবার রাতেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল মাশরাফি বিন মর্তুজা। সুনির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনা থেকে এনামুল হককে ওয়েস্ট ইন্ডিজে নিয়ে এসেছেন অধিনায়ক। তাতে একটি ব্যর্থতাতেই এ ওপেনারকে ছুড়ে ফেলাটাকে অনুচিতই মনে করছেন তিনি। আশা করা যায় প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের পর অন্তত আরেকটি বাউট ‘এনামুল চ্যালেঞ্জ’ খেলার সুযোগ পাবেন মাশরাফি। তাতে যদি অধিনায়কের মান রাখতে পারেন এনামুল!

এক-দুই করে কত যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে নেমেছিলেন মাশরাফি! সেই জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে। মাঝে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন বটে, তবে বোলিং করেছেন সংক্ষিপ্ত রান আপে। ভেবেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে প্রস্তুতিতে চিরায়ত রান আপে ফিরে যাবেন। কিন্তু স্ত্রীর আকস্মিক অসুস্থতায় হাসপাতাল-বাসা করে করে সেভাবে তৈরি হওয়া হয়নি। ওদিকে টিমের সঙ্গে কোচিং স্টাফও চলে এসেছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে। সাংসারিক উদ্বেগ আর দায়িত্বের ফাঁকে ফাঁকে তাই একা একাই অনুশীলন করেছেন মিরপুরের একাডেমি মাঠে। সব অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে যখন তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে এমিরেটসের ফ্লাইটে, তখন মাশরাফির সম্বল মোটে ৪ ওভার করে দিন চারেকের প্রস্তুতি আর প্রবল মানসিক ও শারীরিক চাপ। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে জ্যামাইকায় নামার পরদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আর খেলা হয়নি। সব মিলিয়ে গায়ানায় স্টেজেই মেরে দিতে হয়েছে মাশরাফিকে।

‘প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলাম। জীবনে কোনো দিন এতটা অপ্রস্তুত হয়ে মাঠে নামিনি। আল্লাহ সহায় ছিলেন, নইলে পারতাম না’—৩৭ রানে ৪ উইকেট পাওয়ার পেছনে আর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রস্তুতির অভাবের বিস্তারিত আরো উদ্বেগের। জ্যামাইকায় প্রস্তুতি ম্যাচের ফাঁকে ৫ ওভার স্পট বোলিং করেছিলেন তিনি। সে অভিজ্ঞতা মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মাশরাফির, ‘আমি নো বল করি না। কিন্তু আজ (১৯ জুলাই) তিনটি নো বল করেছি!’ নো বল আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে প্রথম ওয়ানডের আগে গায়ানার একমাত্র প্র্যাকটিস সেশনে পুরো ১ ওভারও বোলিং করেননি মাশরাফি। আবার নো বল হওয়া মানে মনে আতঙ্ক বাসাবাড়ি করে বসা।

যা হবার ম্যাচেই হবে ভেবে মাঠে নেমে মাশরাফি যা করেছেন, তা অন্যদের জন্য অনন্য উদাহরণ। টিমের মেসিউর সোহেলের পরম যত্নে ম্যাসাজ নিতে নিতে বলছিলেন, ‘শরীর মাঝেমধ্যেই বিগড়ে যায়, তখন মনের জোরে চলি। আমি শুধু জানি আমি কী অবস্থা নিয়ে এখানে এসেছি। ভয় ছিল একটাই, অন্যদের কথা বাদ দিন, খারাপ করলে নিজেকে কিভাবে বোঝাব?’

এখন একটা ফরম্যাটই খেলেন। তাই যাবতীয় সমস্যা পেছনে ফেলে ছুটে আসতে হয় মাশরাফিকে। আর কাজটা শুধু তাঁর নিজেকে নিয়েই নয়। টেস্ট বিপর্যস্ত দলকে আগে চাঙ্গা করো এবং দলকে মাঠে পরিচালনা করার পাশাপাশি উইকেটও নাও। এবার সিনিয়রদের কাছ থেকেও অন্যবারের চেয়ে একটু বেশিই সাড়া পাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। দলের ভেতরের খবর, জ্যামাইকায় নামার পরদিন টিম মিটিংয়ে যে ঝাঁজের সঙ্গে ‘টিম টক’ করেছেন মাশরাফি, তাতে সায় ছিল সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও। গত সন্ধ্যায় জুনিয়র ক্রিকেটারদের জাগানোর জন্য ‘জ্বালাময়ী’ কিছু বলারই কথা মাশরাফির, যে সভায় থাকার কথা রয়েছে সাকিব-তামিমেরও। প্রথম ওয়ানডে জয় যেন আশীর্বাদ হয়েই এসেছে মাশরাফির জন্য।

ওদিকে আগামীকাল একই মাঠে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ওয়ানডে নিয়েও ভাবনা শুরু করে দিয়েছে দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। কাল প্রথম ওয়ানডের পর পুরো একাদশের ছুটি ছিল। বাকিদের নিয়ে সকালে মাঠে আসা ম্যানেজার রাবীদ ইমামকে রাতে আবার যেতে হয়েছে স্টেডিয়ামে। দিবারাত্রির ম্যাচের পরিবেশ সম্পর্কে যে আগাম ধারণা নেওয়া দরকার। তাই কোচিং স্টাফদের কাউকে সঙ্গে নিয়ে ম্যানেজারকে মাঠটা পরিদর্শনের অনুরোধ মাশরাফির।

এবার আর প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি চান না অধিনায়ক। প্রথম ওয়ানডেতে নো বল হয়নি, উইকেট পাওয়ায় তিনি আরো উজ্জীবিত। তাতে এত দিন কণ্ঠ ‘ব্যাকফুটে’ নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করা মাশরাফির হুঙ্কার, ‘আজ (রবিবার) যে ক্রিকেট হয়েছে, তাতে ওদের আমাদের সঙ্গে পারার কথা না। অবশ্য খেলাটা ক্রিকেট, যেকোনো কিছুই হতে পারে। তবে আমরা ছাড়ব না