কাতারের বিরুদ্ধে নেয়া আমিরাতের পদক্ষেপ জাতিগত বৈষম্যমূলক

কাতারের বিরুদ্ধে বয়কটের অংশ হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেয়া পদক্ষেপগুলি জাতিগত বৈষম্যমূলক এবং কাতারিদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত।

জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ এনে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে সোমবার আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে রুল জারি করে আদালত।

২০০৭ সালের জুন মাসে সৌদি আরব, বাহরাইন ও মিশরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারের বিরুদ্ধে স্থল, আকাশ ও সাগর অবরোধ করে এবং দেশটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন করে। দেশগুলোর এই পদক্ষেপ কয়েক দশকের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে খারাপ কূটনৈতিক বিরোধের জন্ম দেয়।

গত মাসে কাতার আমিরাতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি মামলা দায়ের করে। এতে বলা হয়, হাজার হাজার কাতারিকে বহিষ্কার করে আমিরাত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃতদের বেশিরভাগেরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবার বা নিজের সম্পত্তি রয়েছে।

কাতার অভিযোগ করে, আমিরাতের এই বয়কট জাতিগত বৈষম্য সহ সব ধরনের বর্ণবাদী বৈষম্য (সিইআরডি)দূর করার আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।

আরব আরব আমিরাত এবং কাতার উভয়েই সিইআরডি কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। তবে, সৌদি আরব, বাহরাইন এবং মিশর এই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়।

আইসিজির রুল
সোমবার আইসিজির বিচারক তার রুলে বলেন, আরব আমিরাতের পদক্ষেপের ফলে কাতারের পরিবারগুলো আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবশ্যই পুনরায় একত্রিত হওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে আরব আমিরাতকে।

রুলে আরও বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাতারি পরিবারের শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ দিতে হবে অথবা তাদের অধ্যয়নের রেকর্ড রাখতে হবে যাতে তারা অন্য কোথাও তাদের শিক্ষা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও, আরব আমিরাতের বিচার বিভাগে কাতারিদের প্রবেশাধিকার দেওয়া উচিত বলে রায় দেয়।