গঠন হয়েছে বিশেষ টিম মাদক ‘রাজাদের’ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বাহিনীর তৈরি করা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা থেকে ৩০০ জনের একটি তালিকা সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তালিকা ধরে ওইসব মাদক ব্যবসায়ীর নামে-বেনামে অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। অনুসন্ধানের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম।

মাদকের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না দুদক। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের আইনানুগ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফীন বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।’

নামে-বেনামে যাদের অবৈধ সম্পদের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে যারা মাদকের চোরাচালান ও দীর্ঘদিন ব্যবসা করে অবৈধ উপায়ে বিশাল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, দুদকের চার পরিচালকের তত্ত্বাবধানে চারটি পৃথক বিশেষ টিম কাজ করছে। টিমের সদস্যরা এরই মধ্যে ওইসব মাদক ব্যবসায়ীর জমি-জমা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিভিন্ন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চিঠি পাঠিয়েছেন। একইভাবে আর্থিক তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠি পাঠিয়েছে। এছাড়া শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওইসব দপ্তর থেকে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কারও অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেওয়া হবে।

সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর সব তথ্য-উপাত্তে কারও অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, দুদক চেয়ারম্যানের অনুরোধে চলতি বছর জানুয়ারিতে দুই দফায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর ২১১ জনের একটি তালিকা পাঠায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এছাড়া একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আরও ৯০ জনের তালিকা আসে দুদকে।