উত্তরবঙ্গে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় জেএমবি

 জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির একটি গ্রুপ নব্য জেএমবি গঠন করলেও পুরনো গ্রুপটি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এরা দেশের উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন পেশার আড়ালে সংঘবদ্ধ হচ্ছে। গত সাতমাসে অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি জেএমবি সদস্যই গ্রেফতার হয়েছে ১০ জন। এদের বেশিরভাগ গ্রেফতার হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থানের কারণে নিরাপদ এলাকা হিসেবে উত্তরবঙ্গকে বেছে নিয়েছে তারা। অবশ্য নওগাঁর আত্রাই রানীনগর এলাকা থেকেই জেএমবির শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাই জেএমবির কার্যক্রম শুরু করে।

জানা গেছে, গত ১৯ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জেএমবির তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উগ্র জিহাদি বই জব্দ করা হয়েছে। জেএমবি সদস্যরা হলো শিবগঞ্জ উপজেলার পার একলামপুর বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), একই উপজেলার চাকলা কামার টেকপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন (৩০) ও চাকলা মিয়াপাড়া গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে রহমত আলী (৪৭)। এ সময় তাদের কাছে থাকা উগ্র জিহাদি বই জব্দ করা হয়।

গত ১৭ মে রাজধানীর আরামবাগ থেকে বিপুল পরিমাণ জঙ্গিবাদি বই ও লিফলেটসহ জেএমবির দুই নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ময়মনসিংহ জেলা সদরের কাচিঝুলি এলাকার রুবাইয়া ওরফে লাবিবা এবং একই জেলার ফুলবাড়িয়া থানার শ্রীপুর এলাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছাত্রী নাঈমা আক্তার।

গত ৮ এপ্রিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) পলাতক সক্রিয় সদস্য মো. রাশেদ উল ইসলামকে (২১) ফেনী থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। রাশেদ ২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর ত্রিশাল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার পলাতক আসামি। ফেনীর সোনাগাজী থানার দারুল উলামা মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছিলো।

গত ২২ মার্চ জেএমবি’র শীর্ষ দুই জঙ্গি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর ও আকরাম হোসেন নিলয়কে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, হাদিসুর রহমান সাগর গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন পলাতক আসামি। সে ওই হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করেছিল বলে পুলিশ তাদের অনুসন্ধানে জানতে পারে।

এর আগে গত ২৬ মার্চ রাজশাহীতে জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম শহিদুল ইসলাম (৩৫)। তিনি জেলার বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ইয়ানতকারী গ্রুপের সদস্য ও শিক্ষক মাধব চন্দ্র রায়ের হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী তৈয়ব আলীকে (৬৫) গ্রেফতার করে নীলফামারীর কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। তৈয়ব আলী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিলাই গ্রামের মৃত আসানততুল্লার ছেলে।

পুলিশ সদর দফতরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, জঙ্গিদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও গোপনে তারা সংগঠিত হতে পারে। তবে পুলিশ-র‌্যাব সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। সন্দেহভাজন কিছু দেখলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আগের মত তারা আর মাথাচড়া দিয়ে ওঠার শক্তি জঙ্গিদের নেই বলে জানান তিনি।