সেনাবাহিনীর উচিৎ বাংলাদেশের একাংশ দখল করা: ভারতীয় হিন্দু নেতা

ফুলকি ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচিৎ বাংলাদেশের একাংশ দখল করে সেখানে অবৈধ অভিবাসীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আসামের গুয়াহাটিতে এক সমাবেশে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-র সাবেক প্রধান প্রবীণ তোগাদিয়া।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে বেরিয়ে গিয়ে এই কট্টরবাদী বর্তমানে আন্তঃরাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ (এএইচপি) নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, আসামে তোগাদিয়ার সভা আয়োজনের ওপর দুই মাস নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অমান্য করেই তোগাদিয়া এই সভা করেন।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকারের সমালোচনা করে তোগাদিয়া বলেন, এখানে ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে মাত্র ১৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার এখন ইউ-টার্ন নিয়েছে। বাংলাদেশ যদি অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায় সেক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচিৎ দেশটির একটি অংশ দখল করে সেখানে অবৈধ অভিবাসীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা।

সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকারের মুসলিম-প্রীতি দেখে তোগাদিয়া খোঁচা দিয়ে বলেন, মনে হচ্ছে আসামে এখনও তরুণ গগৈই নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

এদিকে আসামে দুই মাস ধরে তাকে জনসভা করতে না দেয়া এবং গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়ার বিষয়ে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তোগাদিয়া। গুয়াহাটি প্রেসক্লাবেও গণমাধ্যমের সামনে তোগাদিয়ার কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে তিনি গুয়াহাটিরই অন্য এলাকায় প্রেস কনফারেন্স করেন।

এদিকে তোগাদিয়ার মন্তব্যে রাজ্য বিজেপির সভাপতি রঞ্জিত দাস বলেছেন, বিজেপি ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য করে না। এছাড়া মুসলিমদের তুষ্টির কোনও প্রশ্নই আসে না। বিদেশিদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। আর সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনও চুক্তিও নেই। তাই প্রবীণ তোগাদিয়া বললেই কী আমরা এমনটা করতে পারি? সংবিধান মেনেই আমরা কাজ করবো।

এ বিষয়ে গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনার হিরেন নাথ বলেন, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, তার এ বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক নয়। তিনি তার বক্তব্যে হিন্দু বা মুসলিম শব্দ ব্যবহার করেননি। তারপরও আমরা খোঁজ নেবো যে তিনি আসলে কী বলেছিলেন এবং সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।