বিকাশ এ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারকদের নতুন ফাঁদ

বিশেষ প্রতিবেদন: বিকাশে ফাঁদে পড়ে টাকা খোয়ানোর ঘটনা নতুন নয়। এই ফাঁদ যেন কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না। জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং প্লাটফর্ম বিকাশ এর বিকাশে নতুন মাত্রা যুক্ত করা অ্যাপও সেই ফাঁদ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। প্রতারকদের কাছে এই অ্যাপ প্রযুক্তিও হচ্ছে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার নয়া ফাঁদ।

শত টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার- সবই যেন এই বিকাশ-এ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ একদিকে যেমন সতর্ক করা ছাড়া কিছু করতে পারছে না, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও মিলছে না সমাধান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিকাশের কর্মী পরিচয় দেয়া এক প্রতারকের কাছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা খোয়ান রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোজাম (ডাকনাম)।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি ফোন নম্বর (01906264938) থেকে ওইদিন সন্ধ্যায় আমার বিকাশ নম্বরে ফোন আসে। ওই ব্যক্তি নিজেকে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে কিছু ইরফরমেশন গ্যাপ আছে। ইনফরমেশনগুলো যদি না দেন তবে কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।  তখন আমি তার কথা বিশ্বাস করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিই। ওই ব্যক্তির কথামতো আমার মোবাইল ফোনে আসা ভেরিফিকেশন কোড তাকে জানিয়ে দিই। এরপর ওই কোড ব্যবহার করে তিনি বিকাশের অ্যাপ দিয়ে টাকা ক্যাশ আউট করে নেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশ-আউটের ক্ষুদেবার্তাও আমার ফোনে চলে আসে। এভাবে তিনি আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।’

মোজাম বলেন, ‘আমি কোড দিতে চাইনি। কিন্তু তিনি বলের- আমি তো আপনাকে টাকা পাঠাতে বলছি না- জাস্ট কিছু ইনফরমেশন গ্যাপ আছে সেটা পূরণের জন্য বলছি। আর তার জন্য কোডটা দরকার।’

বিকাশের কাছে অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার পর অভিযোগ করেছি। তারা শুধু ওই নম্বরটা টুকে নিয়েছেন।

শুধু মোজাম নন, বিকাশের অসংখ্য গ্রাহকের এমন অভিযোগ আছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এক শ্রেণির প্রতারক চক্র কৌশলে এ ধরনের কাজ করছে। গ্রাহককে ফোন করে ফুসলিয়ে বা কনভিন্স করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এ বিষয়ে গ্রাহককে সতর্ক করার জন্য বিকাশের প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে বিকাশের ভেতরের কেউও এমন কাজে জড়িত আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিকাশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মানুষকে কথার জালে ফেলে এক শ্রেণির প্রতারক কিছু প্রলোভন দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে মূলত গ্রাহককে সতর্ক থাকতে হবে। তাকে সব সময় মনে রাখতে- যেহেতু বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যাংক হিসাবের মতোই, তাই কাউকে গোপন পিন বা কোড দেয়া যাবে না।’

‘তবে যারা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বা সংশ্লিষ্ট বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি’। এমনটাও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক হওয়ার বাইরে কিছু নেই।’