নামাজের সময় বিরতি না রাখায় রথ যাত্রার অনুষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জগন্নাথদেবর রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার রাত ৯ টার দিকে কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রথযাত্রা উৎযাপন কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ লাল সাহা বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় শনিবার গভীর রাতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ইতিমধ্যেই মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হালিম শেখ (৪১) ও হাজী লিয়াকত আলীকে (৫৮) রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আজ রোববার সকাল থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার সদরের বড় বাজার ঘাঘরের হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিলে ব্যাবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, উল্টোরথ উপলক্ষে শনিবার রাতে তারাশী গ্রামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিলো। সেখানে শত শত ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। রাত ৯ টার দিকে মামুন শেখ (২২), মাসুদ শেখ (৫৫), হালিম শেখ (৪১), হারুন শেখ (৫০), হেমায়েত শেখ (৪৫), সরাফত হোসেন (৪৮), ওহাব শেখ (৩৮), হাজী লিয়াকত আলী (৫৮) ও মোহিন শেখ (৩০) সহ আরো অজ্ঞাত ১০/১৫ জন লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে ভক্ত নারায়ন দাম, শর্মী মন্ডল, দিপালী মন্ডল, মিতু মন্ডল, শুভ সাহা, সীমান্ত বালাকে মারধর করে। হামলাকারীরা ৫ টি চেয়ার ভাংচুর করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে পন্ড করে দেয়। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাচ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে চলে যান।

গ্রেফতারকৃত হালিম শেখ পুলিশকে বলেছে, নামাজের জন্য আমরা ৩০ মিনিট মাইক বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। তারা মাইকও বন্ধ রেখেছিলো। কিন্তু নামাজ চলাকালেই তারা আবার মাইক বাজায়। এ কারণে রাত ৯ টার দিকে অনুষ্ঠানের পেছনের দিকের ৩ টি চেয়ার ভাংচুর করা হয়। সে চেয়ারে কোন ভক্ত বসা ছিলেন না।’