দেখে নিন সর্বকালের সেরা ৫ গোলরক্ষকের তালিকায় কারা আছেন?

ফুলকি ডেস্ক: দলের সাফল্যের অন্যতম একজন হলো গোলকিপার। ফুটবল মাঠে গোলকিপার বা গোলরক্ষক এর পজিশন কোথায় তা নিশ্চই আর বলতে হবে না। হ্যা, তাদের অবস্থান গোল বারের নিচে এবং কাজ গোল সেভ করা।

কিন্তু দারুন সব গোল আর মুভ করা স্ট্রাইকার এবং মিডফিল্ডাররা যতটা আলোচনায় থাকেন বা মিডিয়ার মনোযোগ পায় তার অর্ধেকও পায় না কোন গোলকীপার। উপরন্তু, গোলকিপারের গোল বার ভালোভাবে রক্ষা করার কারনেই দেখা যায় কোন দল জয় লাভ করে। আর তাদের ছোট একটা ভুলও অনেক বড় করে দেখা হয়।

বর্তমান এবং অতীতে মিলিয়ে আমরা অনেক বিখ্যাত অনেক গোলকিপার রয়েছে। তারা জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়েও দারুন সফল। তাই তাদের সাফল্য, স্ট্যাটিস্টিক, ট্যাকটিক্স ইত্যাদি বিবেচনা করে সর্বকালের সেরা ৫ গোলকিপারের তালিকা করেছে ফিফা। এখানে যেমন বর্তমানের খেলোয়াড়েরা আছে তেমনি আছে অতীতের  লোয়াড়েরাও।

পঞ্চম-ডিনো জোফ

ডিনো জোফ সর্বকালের সেরা গোল কিপারের মধ্যে অন্যতম। তিনি ইতালীয়ান ফুটবল এবং বিশ্ব ফুটবলে অগনিত রেকর্ড করেছেন। তিনিই সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জিতেন যখন তার বয়স ছিলো ৪০ বছর। এমনকি তখন তিনি ইতালি দলের ক্যাপ্টেনও ছিলেন। তিনি সবচেয়ে বেশি সময় গোলকীপার হিসেবে ক্লিন শিট রেখেছেন। ১৯৭৪ সালে হাইতির বিপক্ষে গোল খাওয়ার আগে তিনি টানা ১১৪২ মিনিট গোল বার রক্ষা করেছেন।

ক্লাব পর্যায়ে তিনি নাপোলি এবং জুভেন্টাস এর হয়ে খেলেছেন। যেখানে তিনি ৬ টি সিরি আ শিরোপা, ২ টি কোপা ইটালিয়া, ১ টি ইউএফআ কাপ জিতেছেন। আর ইতালি জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ১৯৬৮ সালে উয়েফা জিতেছেন। এছাড়া তিনি ফিফা এবং উয়েফা কর্তৃত আরো অনেক একক পুরষ্কারও পেয়েছেন।

চতূর্থ-ম্যানুয়েল নয়্যার

ম্যানুয়েল নয়্যার, বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা গোলকিপার। তার ইউনিক খেলার ধরনের জন্য তাকে “সুইপার-কিপার” বলে ডাকা হয়। নয়্যার যেন এক কমপ্লিট প্যাকেজ গোলকীপার। কুইক রিফ্লেক্স, স্পট কিক সেভ করা, ডিফেন্ডারদের বুঝানো, বিপদের সময়ে ঝুকি নিয়ে বক্সের ববাইরে এসে বল ক্লিয়ার করা ইত্যাদি যেন তার নিত্যদিনের খেলা।

ক্লাব পর্যায়ে তিনি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলেন। এছাড়া তিনি শালকে ০৪ এর হয়ে গোল কীপিং করেছেন। শালকে ০৪ এর হয়ে তিনি ডিএফবি-পোকাল এবং ডিএফবি-লীগাপোকাল জিতেছেন। আর বায়ার্নের হয়ে তো তার ক্যারিয়ার আরো সমৃদ্ধ। বায়ার্নের হয়ে তিনি ২০১৩ -২০১৬ পর্যন্ত টানা চারটি বুন্দেসলীগা (জার্মান লীগ) জিতেছেন, তিনটি ডিএফবি-পোকাল,  একটি ডিএফএল-সুপারকাপ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, একটি ইউএফআ সুপার কাপ এবং একটি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। আর জাতীয় দলের হয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়। এছাড়া ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ৩য় হওয়া এবং ২০১২ সালে ইউরো কাপে সেমি ফাইনাল খেলা জার্মানি ফুটবল দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।

তৃতীয়-লেভ ইয়াসিন

লেভ ইয়াসিন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয় দলের গোলকিপার ছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে তিনি ছিলেন ডায়নামো মস্কো দলের খেলোয়াড়। ডায়নামো মস্কোতেই তিনি ১৯৫০-৭০ পর্যন্ত খেলেছেন। তিনি এতটাই ভালো গোলকীপার ছিলেন যে “বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার” (ইয়াসিন ট্রফি) তার নামেই করা হয়েছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে তিনি ৭৮ টি ম্যাচ এবং চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১৯৫৬ সালে অলিম্পিক গোল্ড মেডেল জিতেন। পুরো ক্যারিয়ারে তিনি ২৭০ টি ক্লিন শীট এবং ১৫১ টি পেনাল্টি সেভ করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি ফিফা নির্বাচিত সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা করে নেন।

একমাত্র গোলকীপার হিসেবে ১৯৬৩ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন তিনি।

দ্বিতীয়-জিয়ানলুইজি বুফন

ইতালি জাতীয় ফুটবল দল এবং জুভেন্টাসের গোলকিপার। জাতীয় দল এবং ক্লাব উভয় স্থানেই তিনি গোল কীপিং করার পাশাপাশি দলের অধিনায়কও। শেষ ২০ বছর তিনি যা করছেন তার জন্য অনেকের মতে তিনিই সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক। পার্মাতে ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম থেকেই তিনি রেকর্ডের পর রেকর্ড করে গেছেন। ২০০১ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফি তে জুভেন্টাস বুফনকে দলে টেনে নেয় এবং তখন থেকেই তিনি জুভেন্টাসের গোলবারের নিচে আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রথম-ইকার ক্যাসিয়াস

একজন ফুটবলার হিসেবে যা কিছু জয় করা যায় তার সবটাই তিনি করেছেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাবে তার অভিষেক হয় এবং এরপর আর তাকে পিছে তাকাতে হয়নি। রিয়ালে থাকাকালে তিনি ৫ টি লা লীগা শিরোপা, ৩ টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ৪ টি কোপা ডেল রে জিতেছেন। আর এজন্যই স্প্যানিশ ঘরোয়া ফুটবলে তার কীর্তি অমলিন হয়ে থাকবে।

আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইকার ক্যাসিয়াস ছিলেন স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের গোলকিপার এবং অধিনায়ক। তার অধিনায়কত্বেই স্পেন ২০১০ সালে ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ এবং ২০১২ সালে পরপর দুইবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউরো কাপ জিতেছে।

তিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা ৫ বার ফিফা ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশের গোলকিপার নির্বাচিত হন। গোলকীপার হিসেবে তার এই অসামান্য কীর্তির জন্যই তিনি সর্বকারের সেরা গোলকীপারের তালিকায় সবার উপরে অবস্থান করছেন।