টিভিতে ইসলাম সম্পর্কিত বিতর্কের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন লৌখনোর ইমাম

লাইভে মহিলা আইনজীবীকে ধাপ্পর

ভারতের টেলিভিশনে ইসলাম এবং শরিয়ত সম্পর্কিত বিতর্কের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন লৌখনোর ইমাম খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গি মাহলি। ভারতের টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে একজন ধর্মীয় নেতা এক মহিলা আইজীবীকে চড় মারার প্রতিক্রিয়ায় লৌখনোর ইমাম খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গি মাহলি এই নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার জি হিন্দুস্তান নামক টেলিভিশনে বিতর্ক চলাকালে ইজাজ আরশাদ কাশেমী নামের এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা ফারাহ ফাইজ নামে সুপ্রিম কোর্টের একজন মহিলা আইনজীবিকে চড় মারার প্রতিবাদে তিনি এ দাবি জানান।

দৈনিক ভাস্করের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সব বিতর্ক মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে জানিয়ে ইমাম মাহলি সরকারের নিকট আহ্বান জানান এবং তিনি এ বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়ার প্রেস কাউন্সিলের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। পরে এ বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জি হিন্দুস্তানের লাইভ অনুষ্ঠান চলাকলীন সময়ে, মাউলানা কাশেমী তিন তালক নিয়ে ফাইজের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে চড় মারেন। জি হিন্দুস্তান জানায়, গণমাধ্যমের অভিযোগের ভিত্তিতে জি মিডিয়া অফিস থেকেই মাউলানা কাশেমীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিতর্ক চলাকালে আইনজীবী ফাইজ মতামত দেন যে, তিন তালাক কুরআন অনুযায়ী স্বীকৃত বিবাহ বিচ্ছেদ পদ্ধতি নয়। এ কারণে তার সাথে মাউলানা কাশেমীর বাক-যুদ্ধ বেঁধে যায় এবং তা শারীরিক আঘাতে রুপ নেয়।

ডিএনএ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্ক অনুষ্ঠানে ফারাহ ফাইজ বলেন, ‘যথাযথ সমঝোতা ছাড়াই তালক-ই-বিদাত এর চর্চা মুসলিম নারীদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করে। তিনি আরো যুক্ত করেন যে, বিবাহ, তালাক, ভরণপোষনের যথাযথ নিয়ম কানুন ব্যতীত মুসলিম নারীরা লিঙ্গ বৈশষ্যের শিকার হন’।

ফারাহ ফাইজ ভারতের উত্তর প্রদেশে মুসলিম নারীদের সমতা নিয়ে কাজ করে এমন একটি NGO চালান এবং তিনি RSS এর সাথে যুক্ত রাষ্ট্রয়ার্দি মুসলিম মহিলা সংঘের (সম্মান সূচক) প্রধান। সুপ্রিম কোর্টে তিন তালাক নিয়ে তিনি একসময় পিটিশন দায়ের করেছিলেন। গত বছর সুপ্রিম কোর্ট তিন তালককের চর্চাকে ‘বাতিল’, ‘বেআইনি’, এবং ‘সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক’ বলে এক যুগান্তকারী রায় দেয়।