বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চুরির সময় ভারতীয় ব্যাংক কর্মকর্তা আটক

ফুলকি ডেস্ক: ব্যাংক থেকে টাকা চুরির ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা চুরি হয়েছে, এমন ঘটনা নিকটতম সময়ে শোনা যায়নি। গত রোববার এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। ভল্ট থেকে ৫ লাখ টাকা চুরি করে নিরাপদে বেরিয়েও যায় ওই ব্যক্তি। হাতেনাতে ধরা না পড়লেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য চোর পার পায়নি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র দাশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটাতে তিনি সময় নেন মাত্র ৪৬ সেকেন্ড। রোববার বিকেল ৫টা ৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ড থেকে ৫টা ৮ মিনিট ৪ সেকেন্ডের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার টাকা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের ভল্টে আসা দীপক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার একটি বান্ডিল হাতিয়ে নেন। তিনি চুপিসারে তা বাইরে রেখে আবার ভেতরে ঢোকেন। টাকা চুরির বিষয়টি প্রথমে তিনি অস্বীকার করলেও ভিডিও ফুটেজ দেখানোর পর স্বীকার করেন এবং চুরি করে নেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত দেন। তার ব্যাংক থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে_ এমন লিখিত দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে ছেড়ে দেয়। তবে এমন ঘটনা ধরার পরও পুলিশে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার মধ্যস্থতায় দীপক চন্দ্র দাশকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা প্রথমে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি-না উল্টো এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি নিজেই আবার ফোন করে বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি সাময়িকভাবে একটি বান্ডিল পাওয়া যাচ্ছিল না, পরে পাওয়া গেছে। যে এটি সরিয়েছিল তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে_ এমন লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সোমবার ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিসিটিভিতে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ সমকালের হাতে আছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সাদা শার্ট গায়ে এক ব্যক্তি (ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের প্রতিনিধি) টাকা বুঝে নিচ্ছেন। তার পেছনে থাকা চেয়ারে বসে আছেন আরেকজন সাদা শার্ট গায়ে দেওয়া ব্যক্তি (স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি)। বিকেল ৫টা ৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে বসা ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে টাকা বুঝে নেওয়া ব্যক্তির পেছনে গিয়ে দাঁড়ান। দু’এক পা এদিক-সেদিক হাঁটাহাঁটির পর ৫টা ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে সারি-সারি রাখা টাকার বান্ডিল থেকে একটি (পাঁচশ’ টাকার এক হাজার পিস নোট) নিয়ে আবার বসে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যে একটি কালো ব্যাগে টাকা ঢুকিয়ে ঠিক ৫টা ৮ মিনিট ৪ সেকেন্ডে তিনি ভল্টের ভেতর থেকে বেরিয়ে যান।

গত বছর বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরির ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। গত বছরের জানুয়ারিতে সুড়ঙ্গ কেটে সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জের রথখোলা শাখা থেকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা টাকা চুরি হয়। একই বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংকের বগুড়ার আদমদীঘি শাখা থেকে চুরি হয় ৩২ লাখ টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংকের পুরান ঢাকার ঠাটারী বাজার শাখা থেকে এক কোটি টাকা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে চোর।

চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের আশুলিয়া শাখায় দিনদুপুরে ডাকাতির সময় আটজন নিহত হন। এর আগে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরির খবর শোনা গেলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরির কথা শোনা যায়নি।