কোরবানিতে বাড়তে পারে চিকুনগুনিয়া, কিন্তু কেন?

ফুলকি ডেস্ক: প্রতি বছরই কোরবানির হার বাড়ছে। এবার নির্বাচনী বছর হওয়ায় সেই হার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবছর সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তাই এখনই কোরবানি পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সচেতন হওয়ার ‍আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

তারা এও মনে করেছেন, এবার বর্ষা মৌসুমে কোরবানি হওয়ায় চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়াতে পারে। এজন্য আগে থেকেই সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করার জন্য নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

শনিবার (২১ জুলাই) দুপুরে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) কলাবাগান কার্যালয়ে ‘মক্কা-মদিনার আদলে কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব প্রস্তাব করা হয়।

পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তব্য দেন-পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরীসহ পবার অন্য নেতারা।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, প্রতি বছর ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে গরু, মহিষ, ভেড়া, খাসি, দুম্বা, উটসহ প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি করা হয়। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী দুইদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানি করা হয়। কোরবানি পশুর বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে যেখানে-সেখানে পড়ে থাকে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, এই পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের মক্কা-মদিনার আদলে কোরবানি করতে হবে। এসময় তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মক্কা-মদিনায় নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করা হয়। এবং প্রশিক্ষিত কসাই দিয়ে কোরবানি এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোসহ যাবতীয় কাজ করা হয়। এতে বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলতে সক্ষম হয়। তাই আগামী কোরবানিতে নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি করতে সিটি কর্পোরেশন ও অন্য সংস্থাকে এখন থেকেই উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি নিতে হবে।

পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে প্রতিবছর ৭ শতাংশ হারে কোরবানি বাড়ছে। তাছাড়া এবার যেহেতু নির্বাচনী বছর তাই কোরবানি গত বছরের চেয়ে বেশি হবে। সরকারি হিসাব মতে, ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে এবার প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কোরবানি হবে। তাই সিটি কর্পোরেশনকে এখনই নিশ্চিত করতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি এবং কোরবানি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি।

তিনি বলেন, গত বছরের পরিসংখ্যান ধরে এবার সরকারের উচিৎ আগে থেকেই পর্যপ্ত স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে বাইরে থেকে পশু আমদানি করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকার নিশ্চিত করা। আর কোন অবস্থাতেই যেন রাস্তা বা খেলার মাঠে পশুর হাট না বসে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

ডাক্তার লেলীন চৌধুরী বলেন, এবার কোরবানি হবে বর্ষা মৌসুমে তাই এবারও চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ অন্য ব্যাধি ছড়াতে পারে। তাই সিটি কর্পোরেশনের উচিৎ হবে নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি নিশ্চিত করা। এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় পর্যাপ্ত সুবিধা যেমন- প্রশিক্ষিত কসাই, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা এবং মাংস সরবরাহে পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আর প্রতিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথভাবে মনিটরিং করতে হবে।