রোহিঙ্গা শিবিরে আরও ১০৫ জন এইডস রোগী, মোট আক্রান্ত ২৪৫ জন

 গত ছয় মাসে রোহিঙ্গা শিবিরে আরও ১০৫ জন্য এইচআইভি বা এইডস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে এইচআইভি বা এইডস রোগীর সংখ্যা ২৪৫ এ গড়ালো।

আক্রান্তদের মধ্যে দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি একজনের মৃত্যু হয় বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, এটা সঠিক, রোহিঙ্গা শিবিরে প্রতিনিয়ত এইডস রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তেমন গুরুতর সমস্যা হচ্ছে না। তবে এন্টি রেক্টোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার মাত্র একটি থাকায় ওষুধ সরবরাহ নিয়ে মাঝেমধ্যে একটু সমস্যা হয়। আরেকটি এআরটি সেন্টার নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটা হয়ে গেলে সেই সমস্যাও আর থাকবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী- ২৪৫ জন আক্রান্তের মধ্যে নারী ১২৪, পুরুষ ৮৪ জন্য। অন্যদিকে, আক্রান্ত ছেলে শিশু ১৯ ও কন্যাশিশু ১৭ জন।

মিয়ানমারে জনসংখ্যা পাঁচ কোটি ২০ লাখের মধ্যে এইচআইভি বা এইডস নিয়ে বসবাসকারী দুই লাখ ৩০ হাজার বলে তথ্য আছে জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের কাছে। এ হিসাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এইচআইভি বা এইডস নিয়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার।

ইউএনএইডসের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে নতুনভাবে দেড় হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল, মিয়ানমারে ১১ হাজার।

আক্রান্তরা ২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী উল্লেখ করে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম জানান, প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের এইডস পরিস্থিতি নিয়ে যে পরিমাণ চিন্তিত ছিলাম, এখন সে পরিমাণ চিন্তা নেই। কেননা, সবাইকে সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে, ওষুধ পর্যাপ্ত আছে। তাদের সেবায় আছে প্রচুর স্বাস্থ্যকর্মী।