রুপি ও কয়লার উচ্চমূল্যে বিপাকে ভারতের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো

ফুলকি ডেস্ক : আমদানিকৃত কয়লার মূল্য ছয় বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছানোয় উৎপাদন মন্দায় ভুগছে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানিগুলো। তার কারন হল ডলারের বিপরীতে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে রুপি। এরই মধ্যে ভারতীয় কনগ্লোমারেট এশার গ্রুপ নিজেদের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট (ক্ষমতার) বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে দিচ্ছে ।

দেশটির আরেক বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানি আদানি গ্রুপও গুজরাটের মুন্দ্রায় নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের আংশিক ক্ষমতা ব্যবহার করছে। বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো টেকসই করতে ব্যাংক, রাজ্য বিদ্যুৎ বোর্ড এবং প্রোমোটরসহ অংশীদারদের কাছ আর্থিক সহায়তা পেতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিই গঠন করেছে গুজরাট সরকার। এ কমিটি এখন একমাত্র আশা বলে জানিয়েছেন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দুদিক চাপে রয়েছে কোম্পানিগুলো।

একদিকে সমুদ্র থেকে উত্তোলিত প্রতি টন থার্মাল কয়লা ১১০-১২০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে রুপির মানও রেকর্ড নিম্নে দাঁড়িয়েছে। এ মুহূর্তে ১ ডলারের বিপরীতে ৬৮ দশমিক ৬২ রুপি লেনদেন হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানিগুলোর কয়লা আমদানি ব্যয় সাত বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে (গড় মূল্যের ভিত্তিতে)।

গুজরাট উরজা বিকাশ নিগম লিমিটেডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদানি পাওয়ার নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র অল্প কয়েকটি ইউনিট সচল রেখেছে। কোম্পানিটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) আওতায় তা হরিয়ানাতে সরবরাহ করছে এবং চুক্তির মাত্র অর্ধেক বিদ্যুৎ আমাদের সরবরাহ করছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, কেবল টাটা পাওয়ার গুজরাটকে চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৮০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে। সরবরাহ শুরু এবং পিপিএ প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদকদের (আইপিপি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি এশার গ্রুপের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। টাটা পাওয়ারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে মুন্দ্রায় কোম্পানির চারটি ইউনিট সক্রিয় রয়েছে এবং ইউনিটে বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। অন্যদিকে আদানি পাওয়ারের কাছ কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত বছর বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর জন্য পিটিশন দায়ের করেছিল বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানিগুলো। কিন্তু গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। এমনকি সংকট বাঁচতে গত বছর তিনটি কোম্পানি গুজরাট সরকারকে ১ রুপিতে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৫১ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটে পড়ায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতে যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ২০ রুপি, সেখানে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ অবকাঠামোয় উৎপাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৪৩ ৩ রুপি, যা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রায় ১০-২০ শতাংশ সস্তা।