আশুলিয়ায় অটো চালক সমিতির সদস্যদের সাথে চাঁদাবাজদের সংঘর্ষ : আহত-৫

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় অটোচালক ও চাঁদাবাজদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনায় ৫ অটো চালক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় আশুলিয়ার জিরানী-শিমুলিয়া রোডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এজেড অটো চালক সমিতির সদস্যদের কাছে চাঁদা চেয়ে অটো চলাচলে বাঁধা দিলে চাঁদাবাজদের সাথে অটো চালকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে এজেড অটো চালক সমিতির সভাপতি শিমুলিয়া ইউপি যুবলীগের সভাপতি আমির হোসেন জয় বলেন, ‘প্রায় ৩ বছর যাবত জিরানী শিমুলিয়া রোডে প্রায় শতাধিক ব্যাটারি চালিত অটো চলাচল করে।

আরো পড়ুন: নায়িকাদের ফিটনেস রহস্য

সড়কটি ব্যাপক খানাখন্দে ভরা এবং পানি জমে থাকায় চালকরা প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান কে রবিউল, নজরুল ও হবির মাধ্যমে দেয়া হতো। বর্তমানে সড়কের উন্নয়ন হলে চলাচলরত অটো চালকদের কাছে অতিরিক্ত চাঁদার দাবি করলে তারা তা দিতে অস্বীকার করে।

এ ঘটনায় শিমুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্যকেউ এলাকায় অটো চালাতে পারবে না বলে জানায়। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে চিহ্নিত চাঁদাবাজ রবিউল, রবি, নজরুল ও হবি’র নেতৃত্বে সোমবার বিকেলে ১০/১২ জন মিলে অটো চালকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অটো চালক রাজ্জাক(২৬), পরিমল(২০)সহ ৫ জন আহত হয়। এসময় অটো চালক সদস্যরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।’ ঘটনার পর থেকে ওই সড়কে অটো চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান এজেড অটো সমিতির সভাপতি।

আমির হোসেন আরো জানান, এলাকার সড়কে চেয়ারম্যান ও তার চিহ্নিত লোকদের আর্শীবাদে প্রায় শতাধিক মাহেন্দ্র ও ৮০টি ম্যাক্সি বর্তমানে ওই সড়কে চলাচল করে। মাহেন্দ্র থেকে দৈনিক ৫০ টাকা এবং ম্যাক্সি থেকে ১ শত টাকা জিবি নেন। এছাড়া নতুন কোন পরিবহণ ভর্তি হলে তাদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা এককালীন নিয়ে থাকেন।

এদিকে অটো চলাচলে বাঁধা দেয়ায় অটো চালক ও মালিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার অর্ধশত অটো চালক-মালিক সমিতির সদস্য ও চেয়ারম্যান সুরুজ মধ্যস্থতার জন্যে আশুলিয়া থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে উভয়ের কথা শুনেছেন অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল। এসময় অটো চলাচলের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে? তা পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ বলেন, ‘সড়কটিতে ব্যাপক যানজটের কারনে সাধারণ মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাই ব্যাটারিচালিত এ সকল অবৈধ অটো চলাচল এলাকার বাসিন্দা ছাড়া কাউকে চলতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে ইউনিয়ন যুবলীগের কতিপয় নেতার চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। তাই চাঁদাবাজরাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’ জানতে চাইলে অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি’।