একনজরে দেখে নিন বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের

ফুলকি.কম: সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড সংখ্যায় নারীরা নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছে- যা বৈশ্বিক রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিচ্ছে এবং জাতীয় আইনসভায় লিঙ্গ সমতা আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটিয়েছে।

মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশটির পার্লামেন্টে দুটি কক্ষেই সমান সংখ্যায় নারী ও পুরুষ এমপিরা নির্বাচিত হয়েছে যে ঘটনা একটি ‘বড় মাইলফলক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এখনো কোন নারী নেতৃত্ব নেই। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বে ১১ জন নারী নেতা রয়েছে যারা নিজ নিজ দেশের সরকার প্রধান। এর সাথে যদি ‘হেডস অব স্টেট’ অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় প্রধান ব্যক্তিদের নাম যোগ করা হয় তাহলে এই সংখ্যা হবে ২১।

২০১৭ সালে পিউ রিসার্চের এক গবেষণা মোতাবেক, গত অর্ধশতকে অন্তত একবছর করে হলেও ১৪৬ দেশের মধ্যে ৫৬টি জাতি একজন নারী রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রধান পেয়েছে।

এর মধ্য ৩১টি দেশের নারী প্রধানদের শাসনকাল পাঁচবছর মেয়াদী কিংবা তারও কম সময়, এবং ১০টি দেশে কেবল একবছরের মেয়াদ।

আরো পড়ুন: ভালোবাসা যেখানে কঠিন পাপ

বর্তমানে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান জার্মানির অ্যাঞ্জেলা মের্কেল। ২০০৫ সালে এই জার্মান নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সরকার প্রধান হিসেবে তার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন।

এর বাইরে অন্যান্য নারী সরকার প্রধানদের মেয়াদ পাঁচ বছর বা তারও কম সময়ের। নিউজিল্যান্ডের জেসিন্ডা আরডের্ন, আইসল্যান্ডের নেতা কাটরিন জ্যাকবসডোত্তির এবং সার্বিয়ার আনা বার্নাবিক এরা সবাই ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এর্না সোলবার্গ নির্বাচিত হন ২০১৩ সালে। নামিবিয়াতে ২০১৩ সালে দায়িত্ব নেন সারা কুগংগেলাওয়া। ব্রিটেনের টেরিজা মে ২০১৬ দেশটির দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখান। একইবছর অং সাং সু চি মিয়ানমারে দায়িত্ব নেন।

২০১৮ সালে নির্বাচিত ভিওরিকা ড্যান্সিলা রোমানিয়ার ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী যিনি প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। মিয়া মোটলি ২০১৮ সালে বার্বাডোজের প্রথম নারী প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। একনজরে দেখে নিই বিশ্বের নারী নেতৃবৃন্দের জীবন কাহিনী।

১. আঙ্গেলা ডোরোটেয়া মের্কেল

আঙ্গেলা ডোরোটেয়া মের্কেল হচ্ছেন জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর। তিনি ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল জার্মানির মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্ন প্রদেশ থেকে জার্মান সংসদে সর্বাধিক সংখ্যক আসন জয়ের মাধ্যমে চ্যন্সেলর নির্বাচিত হন। মের্কেল ক্রিসচিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ২০০২ হতে ২০০৫ পর্যন্ত CDU-CSU-এর সংসদীয় জোটের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জার্মানির দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ জার্মানির সমন্বয়ে গঠিত জোটের নেতৃত্ব দেন। ২০০৯ এর ২৭ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর দল সর্বাধিক সংখ্যক ভোট পেয়ে জয়ী হয় এবং CSU ও ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে জোট সরকার গঠন করে। তাঁর সরকার ২০০৯ এর ২৮ অক্টোবরে শপথ গ্রহণ করে।

২. শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের ১০ম জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা, বাংলাদেশের জাতির জনক ও বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়।

১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালে এম এ ওয়াজেদ মিয়ারসাথে তাঁর বিয়ে হয়।

আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভাপতি নির্বাচিত করে।

১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল হিসেবে প্রকাশ পায়। ১৯৯৬ সালে তার দল জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করে এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে। বিজয়ী দলের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি জানুয়ারি ৬, ২০০৯-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে ছিলেন। উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরীপে তিনি বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে ছিলেন। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঠিক পিছনে ছিলেন।

৩. আর্না সলবার্গ

আর্না সলবার্গ বার্গেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নরওয়ের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট নারী রাজনীতিবিদ। ২০০৪ সাল থেকে নরওয়ের কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের সংসদ নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হবার সম্ভাব্য সুযোগ পান। এরফলে ১৪ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে তিনি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইয়েন স্টলটেনবার্গের স্থলাভিষিক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর তিনি হলেন গ্রো হার্লেম ব্রুন্দতল্যান্ডের পর নরওয়ের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।

৪. সারা কুগনগেলওয়া

সারা কুগনগেলওয়া আমাধিলা ১৯৬৭ সালের ১২ অক্টোবর জন্ম গ্রহন করেন। তিনি নামিবিয়ার চতূর্থ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০১৫ সালের ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। তিনি সোয়াপো’র সদস্য। এর আগে তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে দেশেটির পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন। ২০০৩ থেকে দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

৫. অং সান সু চি 

অং সান সু চি’র জন্ম ১৯ জুন ১৯৪৫। তিনিএকজন বর্মী রাজনীতিক, কূটনীতিক, এবং লেখিকা যিনি মায়ানমারের প্রথম ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী। মায়ানমারের ডি ফ্যাক্টো তথা অনানুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবেই তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। এছাড়াও প্রথম নারী হিসেবে তিনি মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মন্ত্রী, বিদ্যুৎশক্তি ও ক্ষমতা বিষয়ক মন্ত্রী, এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট টিন চাঅয়ের কেবিনেটে কাজ করেন; আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি মায়ানমারের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস তথা নিম্নকক্ষে কৌমু টাউনশিপের এমপি ছিলেন।

৬. টেরেসা মে

টেরেসা মেরি মে  ১৯৫৬ সালে  পহেলা অক্টোবর সাসেক্সের ইস্টবোর্ন এলাকায় জন্ম গ্রহন করেন।  তিনি  বিশিষ্ট ব্রিটিশ প্রমিলা রাজনীতিবিদ ও যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ১১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে রক্ষণশীল দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন টেরেসা মে। এছাড়াও, ২০১০ থেকে ২০১৬ মেয়াদে বর্তমান রক্ষণশীল সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৯৭ সাল থেকে মেইডেনহেড সংসদীয় এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরূপে কমন্স সভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। একদেশীয় রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গীতে চিহ্নিত ও উদার রক্ষণশীল চরিত্রের অধিকারী তিনি। ১৩ জুলাই, ২০১৬ তারিখে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হন।

৭. জেসিন্ডা আর্ডেরন

জেসিন্ডা কেট লেউরেল আর্ডেরন ১৯৮০ সালের ২৬ জুলাই নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনস শহরে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে ২০১৭ সালের পহেলা আগস্ট থেকে তিনি তার দল লেবার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

ভিউরিকা ড্যানচিলা

ভিউরিকা ড্যানচিলা রোমানিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশটির সরকার প্রধান। এর আগে দেশটির সরকার প্রধান ছিল রাষ্ট্রপতি। ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন।

৮. মিয়া মোটলি

বার্বাডোজের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মিয়া আমোর মোটলি। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তার দল বার্বাডোজ লেবার পার্টি (বিএলপি) পার্লামেন্টের ৩০টি আসনের সব ক’টিতে বিজয়ী হয়। দুই লাখ ৮৫ হাজার বাসিন্দার ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে এবারই প্রথম কোনো দল পার্লামেন্টের সবগুলো আসন জিতে নেয়। শুক্রবার নির্বাচনের ফল ঘোষণার

আরো পড়ুন: শরীরে দূর্গন্ধ? দূর করুন সহজেই