জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

জাবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশের সরকারি চারকরিতে বিদ্যমান ৫৬% কোটা সংস্কারের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর এপ্রিলে আনন্দোলন প্রাণ পেয়েছিল অভাবনীয় ভাবে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নাটকীয় আশ্বাসে থেমে যায় সেই আন্দোলন। কিন্তু নাককের ক্লাইমেক্সে এসে ছাত্ররা যখন বুঝলো ওটা প্রধানমন্ত্রীর নাটক ছিল তখন সাধারণ ছাত্ররা পুনরায় রোজার মধ্যেই আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। ঈদুল ফিতরের পর সেই আন্দোলন পূর্ণোদ্যমে শুরু করা কথা ছিল। ছাত্ররা আন্দোলন শুরুও করেছিল। কিন্তু বিধি বাম। সরকারের বড় অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা করে সেই আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরিস্থিতি যখন গরম তখন সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসলো ১৫ দিনের মধ্যে কোটা সংস্কার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এটা যে আরেকটা নাটক না এ বিষয়ে ছাত্ররা নিশ্চিত নয়। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নিরীহ ছাত্রদের মধ্যে যারা সরকারের নির্দেশে আটক হয়েছেন তাদের মুক্তির দাবিতে ফুঁসছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

তারই ফল হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি, আন্দোলনে হামলাকারীদের বিচার ও অবিলম্বে কোটা সংস্কারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৩টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ, দর্শন বিভাগ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শিক্ষার্থীরা জানান, ‘কোটা সংস্কারের দাবি সারা বাংলার ছাত্র সমাজের ন্যায্য দাবি। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররা এই দাবিতে আন্দোলন করছে। কিন্তু কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবি না মেনে সরকার ও সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও নির্যাতন করছে।

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের উপর চলছে অমানুষিক পুলিশী নির্যাতন। এ অবস্থায় আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।’