আফগান যুদ্ধ অবসানে সমন্বিত প্রদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান ইসলামি নেতাদের

সৌদিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ইসলামি পণ্ডিতদের একটি সম্মেলন থেকে আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে একটি সমন্বিত প্রদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি তারা তাদের সমর্থন ব্যক্ত করছেন।

গত সপ্তাহে সৌদির শহর জেদ্দা ও মক্কায় দুই দিনব্যাপী ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সহযোগিতায় ইসলামি নেতাদের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, আফগানিস্তানের চলমান সহিংসতা এবং নির্দোষদের হত্যা ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়।

ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমেদ আল-উসাইমীন জানিয়েছেন, ১০৫ জন বিশিষ্ট মুসলিম পণ্ডিত ও ৫৭টি দেশ থেকে ২০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে তালেবানদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্য ওআইসির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও এতে সাড়া দেয়নি জঙ্গি সংগঠনটি। মিডিয়াকে আফগান গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, তালেবানরা আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সংলাপের প্রস্তাবকেও উপেক্ষা করেছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তালেবানরা তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু ঈদ শেষে ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ঘানির অনুরোধ উপক্ষা করে ফের যুদ্ধে লিপ্ত হয় তারা।

সৌদি আয়োজকদের আপাতত কৌশল হচ্ছে স্থানীয় মসজিদগুলির ইমামদের ব্যবহার করা। মসজিদের নেতা হিসেবে ইমামদের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ওঠা-বসা হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে তারা স্থানীয়দের মাঝে আস্থা তৈরি করতে পারেন।

সম্মেলনে আফগানিস্তানের ৩৫ সদস্যের একটি উলেমা প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

আফগানিস্তান ওলামা পরিষদের মুখপাত্র মোল্লা কাশিম হালেমি বলেন, তালেবানদের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর উলেমা পরিষদ প্রায়ই জোর দিয়ে থাকেন।

উলেমা কাউন্সিলের আরেক সদস্য হাফিজ আব্দুল কাইয়ুম ‘দ্য মিডিয়া লাইন’কে বলেন, উলেমা পরিষদ ইতোমধ্যেই সন্ত্রাসী হামলাকে অমানবিক এবং অবৈধ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। নির্দোষ মুসলমানদের হত্যা কোনো ধর্মেই অনুমোদন করা হয়নি এবং এর কোনো বৈধতা নেই।’

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট