লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ি: এসএসফের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :  রাজনীতিবিদ হিসেবে গণমানুষের সঙ্গে যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারপ্রধান এ আহ্বান জানান। এসএসএফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শফিউর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেজন্য আমি সত্যি গর্ববোধ করি এবং সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই আমাদের এই বাহিনীর সকল সদস্যকে। যারাই আমাদের দেশে এসেছেন তাদের সকলেই প্রশংসা করে গেছেন। কাজেই এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় প্রাপ্তি।’

তিনি বলেন, সমগ্র বিশ্বেই ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যার অন্যতম একটি কারণ বৈশ্বিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। আর বাংলাদেশের মত একটি দেশে যেখানে হত্যার রাজনীতি, ক্যু, ষড়যন্ত্র, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা চলে এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের কর্মকান্ড বিদ্যমান সেখানে এটি আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার নিরাপত্তায় যারা দায়িত্বরত তাদের নিরাপত্তাটাও আমার কাছে চিন্তার বিষয়। এটা হলো বাস্তবতা। সবসময় ওটাই চিন্তা করি যে, তাদের নিরাপত্তাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি, যেহেতু যুগের পরিবর্তন, তার সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন আধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করে নিরাপত্তাবেষ্টনীটা যাতে আরো সুরক্ষিত হয়।’

এসএসএফ সদস্যদের আরো দক্ষ এবং প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগের পরিবর্তন হচ্ছে আর যারা অপকর্ম করতে চায় তারাও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে যথেষ্ট পারদর্শী সেই দিকটা মাথায় রেখেই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘তাদের যে ছক বাঁধা থাকে, তাদের যে দায়িত্ব সেখান থেকে তাদের এক চুলও নড়াতে পারি না। মাঝেমাঝে একটু রাগও করি, এটাও ঠিক। কেননা আমরা রাজনীতি করি, আমাদের তো গণমানুষের সঙ্গে যোগাযোগ। তো এটা একটু লক্ষ রাখতে হবে যে, তাদের সঙ্গে এই যোগাযোগটা যেন বিচ্ছিন্ন না হয়। কথাটা আমি সবসময় বলি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমি দেখেছি যে, এসএসএফের প্রত্যেকটা সদস্য তাদের পেশাগত দক্ষতা যা তারা অর্জন করেছে সেটা তারা কাজে লাগায় এবং তাদের একটা দৃঢ়তা, শৃঙ্খলাবোধ, সততা, দায়িত্বশীলতা সেগুলি নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকে। মানবিক গুণাবলীর বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।’

রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ বিদেশ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য ১৯৮৬ সালে গঠিত হয় এসএসএফ। বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাহিনীটির সদস্যরা যেমন দক্ষতা অর্জন করেছে, তেমনি অনেক দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এসএসএফের কাছে। সংস্থাটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের কাজের প্রশংসা এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসএসএফ’র আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা বিদেশী অতিথিরা করে যান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ভিআইপি অতিথিরা আসছেন বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন বা সপ্তাহে ভিআইপিরা আসছেন এবং যারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাবেন তাদের নিরাপত্তার জন্য যখন আমরা এসএসএফকে দায়িত্ব দেই তখন এত নিষ্ঠার সঙ্গে এত চমৎকারভাবে তারা দায়িত্ব পালন করেন যে, এসব ভিআইপিরা প্রত্যেকেই যাবার সময় আমার কাছে এই এসএসএফ-এর নিরাপত্তার নিয়োজিতদের প্রশংসা করে যান।’