জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে বাম দলগুলো

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিতে চায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকা বাম দলগুলো। এসব দলের নেতারা বলছেন, বড় দুই জোটের বাইরে থাকা গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনি মোর্চা গড়ে তুলে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন তারা। প্রাথমিকভাবে সিপিবি, বাসদ (খালেকুজ্জামান) এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চায় থাকা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদ (মার্ক্সবাদী)—এই আটটি দল মিলে নতুন জোট হবে।

পাশাপাশি এর বাইরে যেসব বাম দল রয়েছে, সেগুলোকেও জোটে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এর আগে নির্বাচন কিভাবে হবে, সেই সমস্যার সমাধান চায় দলগুলো। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, এর সমাধানের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা বসতে আগ্রহী বাম দলগুলো। একইসঙ্গে এই আলোচনার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মনে করেন এসব দলের নেতারা।

দলগুলোর নেতারা জানান, জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও আগামী নির্বাচনে কয়টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী নির্বাচন (দলীয় সরকার নাকি নিরপেক্ষ সরকার) অধীনে হবে, কোন পদ্ধতিতে হবে, তা চূড়ান্ত হওয়ার পরই আসন ভাগাভাগি হবে। তখন চূড়ান্ত করা হবে কোন আসনে জোটের কোন দলের প্রার্থী নির্বাচন করবে। তবে প্রত্যেক দলকে নিজ নিজ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘জনগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।তাদের অপশাসন থেকে মুক্তি চায়। এর বাইরে একটা বিকল্প শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় জনগণ। তাই, আগামী নির্বাচনে যদি অংশ নেই, তাহলে সিপিবি-বাসদ জোট ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা একসঙ্গে অংশ নেবো। এর বাইরে মুক্তিযুদ্ধের ৪ নীতিতে বিশ্বাসী দলগুলো আমাদের জোটে আসতে পারবে।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ এটা তারা সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে তার প্রমাণ দিয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনি আচারণবিধির (আরপিও) কিছু ধারায় পরিবর্তন করতে হবে। যেমন প্রার্থীদের জামানত ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে, তা অনেক প্রার্থীর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এটা পরিবর্তন করতে হবে।’

এই প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক  বলেন, ‘সিপিবি-বাসদ জোট ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ব্যবস্থার দাবি নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আশা করি, এই দুই জোট মিলে শিগগিরই একক নাম নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবো। নির্বাচনকে যেহেতু আমরা আন্দোলনের অংশ মনে করি, তাই আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবেই অংশ নেবো।’ তিনি আরও  বলেন, ‘জোটগতভাবে আগামী নির্বাচনে কত আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে, তার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা দল হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেটা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।’

সাইফুল হক বলেন, ‘যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একরফতা নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তাদের নিবন্ধন করতে হলে এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যকতা রয়েছে।তবে সরকার যদি আবারও একই ধরনের নির্বাচনের ব্যবস্থা করে, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ভাবতে হবে। কারণ নিবন্ধন রক্ষা করার জন্য তো একতরফা নির্বাচনে অংশ নিতে পারি না আমরা।’

বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘সিপিবি-বাসদ একটি জোট আছে। এই জোটের প্রাথমিকভাবে ২০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে আমাদের এই জোটের সঙ্গে বাম মোর্চার জোটগতভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই দুই জোট মিলে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী নির্বাচনে কতটি আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে।’

খালেকুজ্জামান বলেন, ‘দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই নির্বাচন আগে আমাদের নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি মীমাংসা করতে হবে। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৈঠক করে মত নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।তবে সব দল একমত না হলে সংখ্যাগরিষ্ট দলের অভিমতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। তাহলে সব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রথম পথ পরিষ্কার হবে।’

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু  বলেন, ‘জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে সিপিবি-বাসদ জোট ও বাম মোর্চা জোটের গত বৈঠকে সবাই একমত হয়েছে। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সবাই একমত হয়েছে আগামী নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তার সুরাহা হওয়ার পরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’